সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: কাশেম সাহেব দুইশ বিঘা জমির মালিক। অনেক। কৃষি শ্রমিক তার জমিতে কাজ করে। এলাকায় তার অনেক প্রভাব। বিচার-সালিশেও কাশেম সাহেবের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।দৃশ্যপট-২: শিমুল সাহেব গার্মেন্টস কারখানার মালিক। তার কারখানায় অনেক শ্রমিক কাজ করে। তিনি শ্রমিক ও এলাকাবাসীর কল্যাণে নানা। ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকাবাসী তাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করছে। শিমুল। সাহেবও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন।
- ক)(1)
NGO এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
গ্রামীণ সমাজে বিনোদনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন হচ্ছে- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১-এর কাশেম সাহেব যে সমাজে বসবাস করেন সে সমাজের স্তরবিন্যাসের উপাদানটি চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কাশেম সাহেব ও শিমুল সাহেবের ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে"- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
NGO-এর পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organization.
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক প্রযুক্তি, নগরায়ণ এবং বিশ্বায়নের প্রভাবে গ্রামীণ সমাজের চিরাচরিত লোকজ বিনোদনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে গ্রামে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল জারি-সারি গান, যাত্রা, পালাগান, কাবাডি, নৌকাবাইচ ও মেলা। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রামীণ বিনোদনের প্রধান উপাদানে পরিণত হয়েছে, ফলে ঐতিহ্যবাহী লোকজ বিনোদন হারিয়ে যাচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১-এর কাশেম সাহেব যে সমাজে বসবাস করেন তা হলো 'গ্রামীণ সমাজ' এবং সে সমাজের স্তরবিন্যাসের মূল উপাদানটি হলো 'ভূমি মালিকানা' বা জমির মালিকানা।
বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে সামাজিক স্তরবিন্যাস ও পদমর্যাদা নির্ধারণের প্রধানতম ভিত্তি হলো ভূমিস্বত্ব বা জমির পরিমাণ। যার জমিস্বত্ব যত বেশি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক স্তরে তার অবস্থান তত উপরে থাকে। অতিরিক্ত ভূমির মালিকরা প্রান্তিক ও ভূমিহীন চাষীদের ওপর আধিপত্য বজায় রাখেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কাশেম সাহেব দুইশত বিঘা জমির মালিক এবং বহু কৃষি শ্রমিক তার জমিতে কাজ করে। এই বিপুল পরিমাণ ভূমির মালিকানার কারণেই তিনি এলাকায় প্রভাবশালী এবং বিচার-সালিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ে নেতৃত্ব দেন। সুতরাং, কাশেম সাহেবের গ্রামীণ সমাজের স্তরবিন্যাসের নির্ধারক উপাদানটি হলো ভূমি মালিকানা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাশেম সাহেব ও শিমুল সাহেবের ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—উক্তিটি যথার্থ। কাশেম সাহেব গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর এবং শিমুল সাহেব নগর বা আধুনিক ক্ষমতা কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তাদের ক্ষমতার কাঠামোর তুলনামূলক পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ক্ষমতার উৎস: দৃশ্যপট-১-এ কাশেম সাহেবের ক্ষমতা কাঠামোর প্রধান ভিত্তি হলো প্রথাগত বিষয়—যেমন বিপুল ভূমির মালিকানা, বংশমর্যাদা এবং গ্রামীণ সালিশি ব্যবস্থার প্রভাব। পক্ষান্তরে, দৃশ্যপট-২-এ শিমুল সাহেবের ক্ষমতার উৎস হলো আধুনিক শিল্পপুঁজি, গার্মেন্টস ব্যবসা, অর্থবল এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড।
২. ক্ষমতার প্রকৃতি ও পরিধি: কাশেম সাহেবের ক্ষমতা মূলত অনানুষ্ঠানিক, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং একটি নির্দিষ্ট গ্রামীণ এলাকার সামাজিক নিয়ন্ত্রণের (বিচার-সালিশ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, শিমুল সাহেবের ক্ষমতা প্রাতিষ্ঠানিক, আনুষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবভিত্তিক। তিনি অনেক শ্রমিকের নিয়োগকর্তা এবং তার প্রভাব নাগরিক সমাজ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিস্তৃত।
৩. রাজনৈতিক নেতৃত্ব: গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে ঐতিহ্যবাহী মাতব্বরির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়, যেমনটি কাশেম সাহেবের ক্ষেত্রে দেখা যায়। অন্যদিকে, আধুনিক নগর ক্ষমতা কাঠামোতে জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈধ রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জিত হয়, যা শিমুল সাহেবের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত।
অতএব, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ভূমিভিত্তিক ক্ষমতা কাঠামো এবং আধুনিক শিল্প-পুঁজিভিত্তিক নগর ক্ষমতা কাঠামোর বৈশিষ্ট্যের আলোকে কাশেম সাহেব ও শিমুল সাহেবের ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে গুণগত ও তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও