ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
নিকোপলিশের যুদ্ধ মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে ভাগ্য নির্ধারণী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এ যুদ্ধে সুলতান বায়েজিদ পরাজিত হলে তাকে ইউরোপ থেকে বিতাড়িত হতে হতো। এ যুদ্ধে বিজয়ের ফলে ওসমানীয়দের গোটা ইউরোপ বিজয়ের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। নিকোপলিশের যুদ্ধের পর বলকান অঞ্চলের ওয়ালেচিয়া, স্টাইরিয়া, হাঙ্গেরি, মোবিয়াসহ অধিকাংশ রাজ্য ওসমানীয় সুলতান বায়েজিদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ক)(1)
সেতুর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
- খ)(2)
জেরুজালেম জয়ে খলিফা ওমর (রা)-এর মহত্ব প্রকাশ পেয়েছিল- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
খলিফা ওমর (রা)-এর শাসনামলের কোন যুদ্ধ নিকোপলিশের যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে খলিফা ওমর (রা)-এর পারস্য বিজয়ের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সেতুর যুদ্ধ ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে বিনা রক্তপাতে জেরুজালেম বিজয়ের পর খলিফা হযরত ওমর (রা) খ্রিস্টানদের সাথে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন, যা তাঁর অনন্য মহত্ত্বের পরিচয় বহন করে। তিনি জেরুজালেমের খ্রিস্টান অধিবাসীদের জানমাল, গির্জা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এমনকি নামাজের সময় হলে খ্রিস্টান প্যাট্রিয়ার্ক চার্চের ভেতরে নামাজ আদায়ের প্রস্তাব দিলেও ভবিষ্যতে মুসলমানরা একে মসজিদে রূপান্তর করতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি চার্চের বাইরে উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায় করেন। বিজয়ী হয়েও এই চরম পরমতসহিষ্ণুতা ও উদারতা তাঁর মহানুভবতার উজ্জ্বল নিদর্শন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নিকোপলিশের যুদ্ধের সাথে খলিফা ওমর (রা)-এর শাসনামলে সংঘটিত 'কাদিসিয়ার যুদ্ধ' (বা নেহাওয়ান্দের যুদ্ধ)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। তবে সামগ্রিক গুরুত্ব ও ভাগ্যনির্ধারণের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিশেষভাবে 'কাদিসিয়ার যুদ্ধ' (বা পরবর্তীতে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন চূড়ান্তকারী 'নেহাওয়ান্দের যুদ্ধ')-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে যেমন নিকোপলিশের যুদ্ধকে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার ভাগ্যনির্ধারণী যুদ্ধ বলা হয়েছে, যার পরাজয়ে ইউরোপ থেকে মুসলিমরা বিতাড়িত হতো এবং বিজয়ে গোটা ইউরোপ বিজয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়; ঠিক তেমনি খলিফা ওমর (রা)-এর সময়ে ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত কাদিসিয়ার যুদ্ধ ছিল মুসলমান ও পারসিকদের মধ্যকার ভাগ্যনির্ধারণী যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয় ঘটলে আরব ভূখণ্ড হুমকির মুখে পড়ত, কিন্তু মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের ফলে পারস্যের রাজধানী মাদাইনসহ মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে মুসলিমদের আধিপত্য সুদৃঢ় হয় এবং পারস্য বিজয়ের দ্বার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নিকোপলিশের যুদ্ধের বিজয়ের পর যেমন বলকান অঞ্চলের একের পর এক রাজ্য সুলতান বায়েজিদের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল, তেমনি খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর শাসনামলে ধারাবাহিক সামরিক সাফল্যের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পারস্য মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাথমিক সংঘর্ষ ও কাদিসিয়ার যুদ্ধ: খলিফা আবু বকর (রা)-এর সময়ে পারস্য অভিযান শুরু হলেও খলিফা ওমর (রা)-এর সময় তা পূর্ণতা পায়। নামারিক ও বূয়েবের যুদ্ধে বিজয়ের পর ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)-এর নেতৃত্বে কাদিসিয়ার ঐতিহাসিক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পারস্যের বিখ্যাত সেনাপতি রুস্তমকে পরাজিত ও নিহত করে। এর ফলে পারস্যের তৎকালীন রাজধানী মাদাইন মুসলমানদের অধীনে আসে।
২. জালুলা ও পরবর্তী অগ্রগতি: মাদাইন পতনের পর ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে জালুলার যুদ্ধে পারসিকরা পুনরায় পরাজিত হয় এবং মেসোপটেমিয়া থেকে পারসিক কর্তৃত্ব সম্পূর্ণ নিঃশেষিত হয়।
৩. নেহাওয়ান্দের যুদ্ধ ('ফাতহুল ফুতুহ'): পারস্য সম্রাট তৃতীয় ইয়াজদাগিরদ সমগ্র পারস্য থেকে বিশাল সৈন্যবাহিনী সংগ্রহ করে ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে নেহাওয়ান্দে মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হন। নুমান বিন মুকাররিনের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী পারসিকদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। এই চূড়ান্ত বিজয়কে ইতিহাসে 'ফাতহুল ফুতুহ' বা 'বিজয়ের বিজয়' বলা হয়।
৪. সমগ্র পারস্য বিজয়: নেহাওয়ান্দের যুদ্ধের পর পারস্যের প্রতিরোধ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় হামাদান, ইস্পাহান, খুজিস্তান, ফার্স, কিরমান, সিজিস্তান ও খোরাসানসহ পারস্যের সমগ্র ভূখণ্ড মুসলিম খেলাফতের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে চলে আসে।
সুতরাং, উদ্দীপকের নিকোপলিশের যুদ্ধের পরবর্তী রাজ্য বিস্তারের মতোই খলিফা ওমর (রা)-এর বিচক্ষণ সামরিক পরিকল্পনায় শক্তিশালী পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং তা খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও