পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
এককেন্দ্রিক সরকার কী?
- খ)(2)
আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত (?) চিহ্নিত স্থানে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যবস্থা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের যাবতীয় শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য এবং আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার। এর অর্থ হলো রাষ্ট্রে আইনের অবস্থান সবার ঊর্ধ্বে এবং সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা পর্যন্ত সকলেই আইনের অধীন। অধ্যাপক এ. ভি. ডাইসির মতে, আইনের শাসন বলতে মূলত তিনটি বিষয়কে নির্দেশ করে— আইনের শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণ। এর ফলে রাষ্ট্র স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্ত থাকে এবং নাগরিকদের সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত (?) চিহ্নিত স্থানে পাঠ্যবইয়ের 'গণতন্ত্র' বা 'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
গণতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এটি কেবল একটি সরকার ব্যবস্থা নয়, একটি জীবনদর্শনও বটে।
উদ্দীপকের ছকে বহুদলীয় ব্যবস্থা, মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহিতা—এই বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ রয়েছে। এগুলো সরাসরি একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য। বহুদলীয় গণতন্ত্রে একাধিক দলের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থাকে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন নাগরিকদের ন্যায়বিচার দেয় এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও সরকারের জবাবদিহিতা স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করে। অতএব, উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলো নিশ্চিতভাবেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ व्यवस्था অর্থাৎ 'গণতন্ত্র' সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর ও সহায়ক।
সুশাসন হলো একটি ইতিবাচক, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। উদ্দীপকে নির্দেশিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো সুশাসনের মূল স্তম্ভের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা: গণতন্ত্রে সরকারকে তাদের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে বা সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা।
২. আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ বজায় থাকলে সমাজে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমতা প্রতিষ্ঠা পায় এবং বৈষম্য দূর হয়, যা সুশাসনের মূল লক্ষ্য।
৩. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের বাকস্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়, যা একটি জনকল্যাণমুখী সুশাসিত রাষ্ট্রের মূল পরিচায়ক।
৪. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক অংশগ্রহণ: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। সুশাসনের একটি মূল উপাদান হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সার্বিক নাগরিক অংশগ্রহণ।
৫. বহুদলীয় ব্যবস্থা: কার্যকর বিরোধী দল এবং বহুদলীয় ব্যবস্থা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ করে ভারসাম্য বজায় রাখে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা যায় না। তাই উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও