পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
নাঈম ও হেনরী যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। একদিন সরকার সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে হেনরী বলল যে, তাদের দেশ সংসদীয় গণতন্ত্র ও আইনের জন্মস্থান। এখানে সরকার তাদের কাজের জন্য একটি বিভাগের নিকট দায়বদ্ধ। নাঈম বলল, আমাদের দেশেও মন্ত্রিপরিষদ তাদের সকল কাজের জন্য সরকারের একটি বিভাগের নিকট দায়ী। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে সরকারের উক্ত বিভাগটির ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে এবং সরকারের অন্য একটি বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ক)(1)
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত হেনরীর দেশের সরকার ব্যবস্থার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নাঈমের দেশের যে বিভাগটির ক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে সে বিভাগের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসন ব্যবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় বিচারকগণ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের যেকোনো প্রকার প্রভাব, হস্তক্ষেপ বা চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা ও সুযোগ লাভ করা। এর ফলে আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত হেনরীর দেশ হলো যুক্তরাজ্য, যেখানে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
যুক্তরাজ্যকে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। এই সরকার ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান: এখানে রাজা বা রানি নামমাত্র বা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকৃত শাসনক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।
২. শাসন বিভাগের আইনসভার নিকট দায়বদ্ধতা: প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা তাঁদের যাবতীয় কাজের জন্য পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব কমন্স’-এর কাছে যৌথভাবে জবাবদিহি করেন। পার্লামেন্ট অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
৩. আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: মন্ত্রিসভার সদস্যরা পার্লামেন্টের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হন, যার ফলে শাসন ও আইন বিভাগের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকে।
সুতরাং, হেনরীর দেশের সরকার ব্যবস্থা হলো দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নাঈমের দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের যে বিভাগটির ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটি হলো ‘শাসন বিভাগ’ (Executive Branch)। বর্তমানে আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান। নিচে শাসন বিভাগের প্রধান কার্যাবলি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রশাসনিক কার্যাবলি: রাষ্ট্র পরিচালনা, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, আইন প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ করা শাসন বিভাগের প্রধান কাজ।
২. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ: বর্তমানে অর্পিত ক্ষমতাবলে শাসন বিভাগ বা আমলাতন্ত্র প্রচুর উপ-আইন, বিধি ও প্রবিধি তৈরি করে। এছাড়া আইনসভার অধিবেশন আহ্বান, মুলতবি এবং অধিকাংশ সরকারি বিল শাসন বিভাগই তৈরি করে।
৩. নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন: দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শাসন বিভাগই করে থাকে।
৪. অর্থনৈতিক কার্যাবলি: রাষ্ট্রের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব বা বাজেট প্রণয়ন, কর নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত।
৫. বিচার সংক্রান্ত কাজ: রাষ্ট্রপতির দণ্ড মার্জনা বা স্থগিত করার ক্ষমতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার দায়িত্বও শাসন বিভাগের অধীনে থাকে।সুতরাং, আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা, প্রযুক্তির জটিলতা এবং জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার কারণে আইন বিভাগের চেয়ে শাসন বিভাগের কাজের পরিধি ও ক্ষমতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও