সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের ছকটি দেখ এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:-

  1. ক)

    সমষ্টি উন্নয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    গ্রহণ নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের যে ধরনের পদ্ধতির ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত পদ্ধতি সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে কি যথেষ্ট? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমষ্টির জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের দ্বারা তাদের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই পরিবর্তন আনয়নের প্রক্রিয়াকে সমষ্টি উন্নয়ন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজকর্মে 'গ্রহণ নীতি' বলতে সাহায্যার্থীকে তার বর্তমান অবস্থা, দোষ-ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা ও গুণাবলি সহ একজন স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়াকে বোঝায়। এ নীতির মূল কথা হলো সাহায্যার্থীর প্রতি কোনো প্রকার পক্ষপাত, অবজ্ঞা বা পূর্বসংস্কার না দেখিয়ে তাকে সহানুভূতি ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা, যাতে সাহায্যার্থী কর্মীর ওপর আস্থা স্থাপন করতে পারে এবং সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের 'সহায়ক পদ্ধতি'র (Secondary or Auxiliary Methods) ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    সমাজকর্মের প্রধান বা মৌলিক পদ্ধতিসমূহ (ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি সমাজকর্ম) মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে এবং এদের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে যেসব পদ্ধতি পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করে, সেগুলোকে সহায়ক পদ্ধতি বলা হয়। ছকে উল্লিখিত 'সমাজকর্ম প্রশাসন', 'সমাজকর্ম গবেষণা' এবং 'সামাজিক কার্যক্রম'—এই তিনটি হলো সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি।

    সমাজকর্ম প্রশাসন সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনাকে সমাজসেবায় রূপান্তর করে এবং সংস্থার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে। সমাজকর্ম গবেষণা সমস্যার মূল কারণ, বিস্তার ও সমাধানের উপায় সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করে। আর সামাজিক কার্যক্রম সামাজিক আইন প্রণয়ন, সংস্কার ও সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যা প্রতিরোধ ও দূরীকরণে কাজ করে। তাই '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতিকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি এককভাবে সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে যথেষ্ট নয়; নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    সমাজকর্মের পদ্ধতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—মৌলিক পদ্ধতি এবং সহায়ক পদ্ধতি। উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত সমাজকর্ম প্রশাসন, সমাজকর্ম গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রম হলো সহায়ক পদ্ধতি। এসব পদ্ধতি মূলত মৌলিক পদ্ধতিগুলোর সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং সমস্যা সমাধানের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    সহায়ক পদ্ধতিগুলোর নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমাজকর্ম গবেষণা সমস্যার তথ্য দেয় কিন্তু সরাসরি প্রয়োগ করে না; প্রশাসন নীতি বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে কিন্তু সরাসরি সাহায্যার্থীর ব্যক্তিগত বা দলীয় সমস্যা সমাধান করে না; এবং সামাজিক কার্যক্রম সামাজিক আন্দোলন বা নীতি সংস্কারের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিবর্তন আনে। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির জটিল ও বহুমুখী মনোদৈহিক বা আর্থ-সামাজিক সমস্যার প্রত্যক্ষ ও পরিপূর্ণ সমাধানের জন্য মৌলিক পদ্ধতিসমূহের (ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি সমাজকর্ম) প্রয়োগ অপরিহার্য।

    সুতরাং, কেবল সহায়ক পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো সমস্যার সামগ্রিক ও চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়। বরং মৌলিক পদ্ধতির সাথে সহায়ক পদ্ধতির যৌথ ও সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমেই সমস্যার পরিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন