সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

স্বামী স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিজীবী। সারাদিন অফিস শেষ করে স্ত্রী বাসায় এসে সন্তানদের দেখাশোনাসহ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। স্বামী অফিস থেকে এসে ক্লাবে যান, মোবাইল বা টিভি দেখেন। স্বামী মনে করেন সংসারে এসব দায়িত্ব পালন করা তার কাজ নয়। সংসার ও অফিসের সকল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

  1. ক)

    সামাজিক অসমতা কী?

    (1)
  2. খ)

    দাসরা ছিল প্রভুর সম্পত্তি - বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার কোন ধরণটি লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অবস্থা সমাজের প্রগতির অন্তরায় - তোমার সুচিন্তিত মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজের মানুষের মধ্যে সম্পদ, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা এবং মর্যাদার অসম বণ্টনজনিত পার্থক্যকে সামাজিক অসমতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দাসপ্রথায় দাসদের কোনো মানবিক বা নাগরিক অধিকার ছিল না; তারা আইনের দৃষ্টিতে প্রভুর ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সমতুল্য ছিল।

    প্রভু ইচ্ছা করলে দাসকে ক্রয়-বিক্রয়, উপহার দান, ইচ্ছামতো শারীরিক পরিশ্রম করানো এমনকি শাস্তি দিতে পারতেন। দাসদের নিজস্ব কোনো সত্তা, স্বাধীনতা বা সম্পত্তির অধিকার ছিল না। প্রভুর পূর্ণ মালিকানাধীন একটি বস্তু বা উৎপাদনের উপকরণ হিসেবেই তাদের গণ্য করা হতো বলে দাসদের প্রভুর সম্পত্তি বলা হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার 'জেন্ডার বা লিঙ্গভিত্তিক অসমতা' (Gender Inequality) এবং শ্রমের জেন্ডারভিত্তিক অসম বিভাজন লক্ষণীয়।

    জেন্ডারভিত্তিক অসমতা হলো জৈবিক লিঙ্গভেদের ওপর ভিত্তি করে সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা, অধিকার, দায়িত্ব ও সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে গৃহস্থালি কাজকে একমাত্র নারীর একচেটিয়া দায়িত্ব মনে করা হয় এবং এর কোনো অর্থনৈতিক বা সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

    উদ্দীপকে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই সমানভাবে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও অফিস শেষে স্ত্রীকেই একাকী সন্তানের লালন-পালন ও গৃহস্থালির যাবতীয় শ্রম দিতে হয়। পক্ষান্তরে স্বামী সংসারের দায়িত্বকে নিজের কাজ মনে না করে আরাম-আয়েশে ক্লাবে বা টিভিতে সময় কাটান। এটি পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতাপ্রসূত জেন্ডারভিত্তিক অসমতার সুস্পষ্ট প্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অবস্থা—অর্থাৎ নারীর প্রতি জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য এবং দ্বৈত কাজের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া—সমাজের সামগ্রিক প্রগতির এক বিরাট অন্তরায়। নিচে আমার সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরা হলো:

    একটি সমাজের টেকসই প্রগতি নির্ভর করে নারী ও পুরুষ উভয়ের সম-অংশগ্রহণ, সুস্থ মানসিকতা ও সুবিচারের ওপর। উদ্দীপকে স্ত্রী অফিস এবং সংসার উভয়ের ভার এককভাবে বহন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি সমাজের প্রগতির জন্য নিম্নোক্ত কারণে অন্তরায়:

    ১. মানবসম্পদের অবক্ষয়: নারীরা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। কর্মজীবী নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তার কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়, যা সামগ্রিক জাতীয় উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
    ২. সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া: মা যদি মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ও ক্লান্ত থাকেন, তবে সন্তানদের যথাযথ মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ভবিষ্যৎ নাগরিকরা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে না।
    ৩. পারিবারিক সম্প্রীতি বিনষ্ট: বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবারে অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে, যা পরিবারের ভিত্তি ও সুখ-শান্তি নষ্ট করে।
    ৪. সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী: আধুনিক গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত হলো নারী-পুরুষের সমমর্যাদা। গৃহস্থালি কাজকে শুধু নারীর কাজ মনে করার এই সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা বজায় থাকলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে।

    সুতরাং, ঘরের ও বাইরের দায়িত্ব সমবণ্টনের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি না হলে প্রকৃত সামাজিক প্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন