সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সংস্কৃতি কি?

    (1)
  2. খ)

    সভ্যতা পরিমাপ করা যায় - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ছক-১ এ সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক ২ এর সংস্কৃতির উপাদানটি সভ্যতা বিনির্মাণ করে - ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংস্কৃতি হলো মানুষের সমগ্র জীবনপ্রণালী; অর্থাৎ মানুষ তার অস্তিত্ব রক্ষা ও সমাজজীবনে টিকে থাকার জন্য যা কিছু সৃষ্টি ও ব্যবহার করে, তার সামগ্রিক রূপই হলো সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, "সংস্কৃতি হলো এমন এক জটিল সামগ্রিকতা যাতে জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, প্রথা এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্য যেকোনো সামর্থ্য ও অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত থাকে।"

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সভ্যতা মূলত মানুষের বস্তুগত সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ, যা মূর্ত ও পরিমাপযোগ্য। সভ্যতার উপাদানসমূহ যেমন—দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি, সেতু, যানবাহন ইত্যাদি বাহ্যিক কাঠামোর আকার, ওজন, উপযোগিতা ও সক্ষমতা সরাসরি গণনা বা পরিমাপ করা যায়। একটি প্রযুক্তি বা আবিষ্কার আগেরটির চেয়ে কতটা কার্যকর ও উন্নত তা নির্দিষ্ট মানদণ্ডে তুলনা করা সম্ভব। এই বাস্তব ও দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের কারণেই বলা হয় যে সভ্যতা পরিমাপ করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-১ এ সংস্কৃতির 'অভৌতিক' বা 'ভাবগত' রূপের কথা বলা হয়েছে।

    সংস্কৃতির যে উপাদানসমূহ স্পর্শ করা যায় না, কোনো দৃশ্যমান বা ভৌতিক রূপ নেই, কিন্তু মানবজীবন ও সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, তাকে অভৌতিক বা ভাবগত সংস্কৃতি বলে। যেমন—জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা, ধ্যান-ধারণা, ভাষা, নীতিবোধ, বিশ্বাস ইত্যাদি।

    উদ্দীপকের ছক-১ এ 'প্রজ্ঞা', 'মেধা' ও 'বুদ্ধিমত্তা' বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো মানুষের চিন্তা ও মানসিক দক্ষতার অংশ, যা ধরা বা ছোঁয়া যায় না কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডকে পথনির্দেশ করে। এই উপাদানগুলো মানুষের অভ্যন্তরীণ চেতনা ও মেধাভিত্তিক অর্জনের সাথে জড়িত। সুতরাং, উদ্দীপকের ছক-১ এ সংস্কৃতি র অভৌতিক বা ভাবগত উপাদানসমূহকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-২ এ সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে এবং এই বস্তুগত সংস্কৃতির অগ্রগতিই মূলত মানবসভ্যতা বিনির্মাণ করে—উক্তিটি যথার্থ।

    সংস্কৃতির দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য ও কৃত্রিম সৃষ্টিকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলা হয়। অন্যদিকে, বস্তুগত সংস্কৃতির জটিল, উন্নত ও সামগ্রিক বিকাশই হলো সভ্যতা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "আমাদের যা আছে তাই আমাদের সভ্যতা আর আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি।"

    উদ্দীপকের ছক-২ এ প্রদর্শিত 'কুঠার', 'তবলা' ও 'ভবন' মানুষের নির্মিত বস্তুগত উপকরণ। কুঠার উৎপাদনের প্রাচীন হাতিয়ার, তবলা বাদ্যযন্ত্র এবং ভবন হলো মানুষের নির্মিত অবকাঠামো। মানুষের বেঁচে থাকা, প্রযুক্তিগত বিকাশ এবং নগরায়ণের ভিত্তি রচিত হয় এই বস্তুগত সৃষ্টির মাধ্যমে। মানব ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাথরের কুঠার থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন এবং সাধারণ বাসস্থান থেকে সুরম্য ভবন নির্মাণের মাধ্যমেই মানুষ এক একটি সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। বস্তুগত কাঠামোর বিকাশ ছাড়া কোনো সভ্যতাই রূপ লাভ করতে পারে না।

    পরিশেষে বলা যায়, মানুষের চিন্তা বা অভৌতিক সংস্কৃতি বস্তুগত উপাদানে রূপান্তরিত হয়ে বাস্তব আকার ধারণ করে, যা মানবসভ্যতা গড়ে তোলার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই ছক-২ এর বস্তুগত উপাদানসমূহ সভ্যতা বিনির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন