মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া রবি হীনমন্যতায় ভোগে। আকারে ছোট হওয়ায় বন্ধুরা তাকে 'বাবু' বলে ডাকে। রবির বড় বোন নাহার ৭ মাসের গর্ভবতী। ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানতে পারলো, তার এমন 'একটি হরমোনের স্বল্পতা আছে, যা সন্তান প্রসবে বিঘ্ন ঘটায়। রবির অপর বোন সুমি গলগন্ড রোগে ভুগছে।

  1. ক)

    স্নায়ুতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রতিবর্তী ক্রিয়া কীভাবে সংঘটিত হয়?

    (2)
  3. গ)

    রবির শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে কোন হরমোনের প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    নাহার ও সুমির শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী হরমোনগুলোর তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণী পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপনা গ্রহণ করে, দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অঙ্গসমূহের কাজের সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো মস্তিষ্কের কোনো সচেতন বা ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সুষুম্নাকাণ্ডের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংঘটিত অনৈচ্ছিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। কোনো উদ্দীপক যখন গ্রাহক অঙ্গে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, তখন সংজ্ঞাবহ নিউরনের মাধ্যমে তা তাৎক্ষণিকভাবে সুষুম্নাকাণ্ডে পৌঁছায়। সুষুম্নাকাণ্ড থেকে মধ্যবর্তী নিউরনের মাধ্যমে সেই নির্দেশ আজ্ঞাবহ নিউরনে যায় এবং মাংসপেশি বা কারক অঙ্গ তৎক্ষণাৎ সংকুচিত হয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। যেমন—হাতে গরম কিছু লাগলে দ্রুত হাত সরিয়ে নেওয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রবির আকারে ছোট হওয়া বা বামনত্বের বৈশিষ্ট্যের পেছনে পিটুইটারি গ্রন্থির ক্ষরিত বৃদ্ধি হরমোন বা সোমাটোট্রপিক হরমোনের (STH / Growth Hormone) প্রভাব রয়েছে।

    মস্তিষ্কের গোড়ায় অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থির অগ্রভাগ থেকে বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানুষের দেহের অস্থি ও মাংসপেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। শৈশব বা কৈশোরে যদি এই বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, তবে দেহের শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ব্যক্তি খর্বাকৃতি বা বামন (Dwarf) থেকে যায়। উদ্দীপকে নবম শ্রেণিতে পড়া সত্ত্বেও রবি আকারে ছোট হওয়ায় বন্ধুরা তাকে 'বাবু' বলে ডাকে এবং সে হীনমন্যতায় ভোগে। অতএব, রবির এই অপর্যাপ্ত দৈহিক বৃদ্ধির জন্য বৃদ্ধি হরমোনের স্বল্প নিঃসরণ দায়ী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নাহারের অবস্থার জন্য পিটুইটারি গ্রন্থির 'অক্সিটোসিন' হরমোন এবং সুমির গলগণ্ড রোগের জন্য থাইরয়েড গ্রন্থির 'থাইরক্সিন' হরমোন দায়ী। নিচে এগুলোর তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. গ্রন্থির উৎস: অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয় পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ ভাগ (Posterior Pituitary) থেকে। অন্যদিকে, থাইরক্সিন নিঃসৃত হয় গলার শ্বাসনালির দুই পাশে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে।

    ২. কাজের ক্ষেত্র ও ভূমিকা: অক্সিটোসিন প্রধানত সন্তান প্রসবকালে জরায়ুর মসৃণ পেশির সংকোচন ঘটিয়ে প্রসববেদনা সৃষ্টি ও স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করে এবং স্তনগ্রন্থি থেকে দুগ্ধ নিঃসরণে সাহায্য করে। অন্যদিকে, থাইরক্সিন দেহের সামগ্রিক বিপাক ক্রিয়া (Basal Metabolic Rate), শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং সার্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৩. স্বল্পতার প্রভাব: গর্ভাবস্থার শেষ দিকে অক্সিটোসিনের স্বল্পতা দেখা দিলে জরায়ুর সংকোচন সঠিকভাবে হয় না, যার ফলে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে জটিলতা বা বিঘ্ন ঘটে (যা নাহারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়)। অপরদিকে, খাবারে আয়োডিনের অভাব বা থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিকতায় থাইরক্সিনের ক্ষরণ ব্যাহত হলে গ্রন্থিটি অস্বাভাবিক ফুলে গিয়ে গলগণ্ড বা গয়টার রোগের সৃষ্টি করে (যা সুমির ক্ষেত্রে ঘটেছে)।

    অতএব, উভয় হরমোনই অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এদের উৎস, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও স্বল্পতাজনিত প্রভাব সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন