পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ • বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
তাপস সোম একজন সমাজকর্মী। মানুষের কল্যাণে তিনি কাজ করেন। সমাজের সকলেই তাকে ভালোবাসে। তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে সমাজের সর্বস্তরের জনগণ তার পাশে এসে দাঁড়ায়।
- ক)(1)
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
- খ)(2)
সংসদীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্যবোধ ভূমিকা পালন করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসনের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা (বা গণতন্ত্র)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকে এবং আইনসভার আস্থা হারালে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়, তাকে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলে। এ সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা প্রকৃত শাসনক্ষমতা পরিচালনা করে এবং রাষ্ট্রপ্রধান মূলত নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাপস সোম ও জনগণের আচরণের মধ্য দিয়ে 'সামাজিক মূল্যবোধ' বা 'সহমর্মিতা ও পরোপকার'-এর মতো মানবিক মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এমন কিছু আচার-আচরণ ও আদর্শের সমষ্টি, যা মানুষকে কল্যাণকর কাজে উৎসাহিত করে এবং পরস্পরের মধ্যে সংহতি বজায় রাখে। পরোপকার, সহমর্মিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা ও বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক মূল্যবোধের উৎকৃষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
উদ্দীপকে তাপস সোম মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন, যা পরোপকারের নিদর্শন। অন্যদিকে তিনি যখন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায়। পরস্পরের প্রতি এই সহানুভূতি ও সহায়তার মনোভাব স্পষ্টত ইতিবাচক সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে এমন এক সামাজিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমমর্যাদা, অধিকার এবং নিরাপত্তা ভোগ করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে ওঠে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কেবল বাহ্যিক শৃঙ্খলা আনা যায়, কিন্তু অন্তরের মূল্যবোধ ছাড়া সত্যিকারের ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে তাপস সোমের মতো সমাজকর্মীর আত্মত্যাগ এবং তাঁর দুঃসময়ে সর্বস্তরের মানুষের এগিয়ে আসা একটি সুস্থ সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহানুভূতির পরিচায়ক। যখন সমাজের সদস্যরা একে অপরের দুঃখে পাশে দাঁড়ায়, তখন পারস্পরিক ভেদাভেদ, শোষণ ও বঞ্চনা দূরীভূত হয়। মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হলে কেউ অন্যের অধিকার হরণ করে না, বরং পিছিয়ে পড়া ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
সুতরাং, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও পরোপকারের মতো মূল্যবোধগুলো সমাজে সমতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে এবং একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও