সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
জামিলা খাতুন ধার্মিক নারী। তিনি অনেক সম্পদের মালিক। তাই প্রতিবছর রমজান মাসে হিসেব করে সম্পদের আড়াই ভাগ দরিদ্র অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেন। এ ধর্মীয় বিধান পালন করে তিনি মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন।
- ক)(1)
সদকা কী?
- খ)(2)
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতেকী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ ব্যবস্থাটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাসে যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম"- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদকা হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অভাবগ্রস্ত ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় দান করা অর্থ বা সম্পদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলতে সমাজ কর্তৃক প্রযুক্ত এমন কিছু কৌশল, নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে ব্যক্তি বা দলের আচরণকে সামাজিক মূল্যবোধ, আদর্শ ও শৃঙ্খলার অনুকূলে রাখা হয়। সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধ করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমাজের অস্তিত্ব রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সমাজ বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিক (যেমন- আইন, পুলিশ, আদালত) এবং অনানুষ্ঠানিক (যেমন- ধর্ম, পরিবার, লোকরীতি, জনমত) নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ ব্যবস্থা হিসেবে 'যাকাত' ব্যবস্থাটি প্রকাশ পেয়েছে। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো যাকাত। নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের ওপর বছরান্তে তার উদ্বৃত্ত সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫%) বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ নির্দিষ্ট খাতে দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বণ্টন করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ। উদ্দীপকে জামিলা খাতুন একজন ধার্মিক ও ধনী নারী। তিনি প্রতিবছর রমজান মাসে হিসেব করে তাঁর সম্পদের আড়াই ভাগ দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে ধর্মীয় বিধান হিসেবে বিতরণ করেন। সম্পদের এই নির্দিষ্ট আড়াই ভাগ বিতরণ এবং ধর্মীয় বিধান পালনের বিষয়টি ইসলামের বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত যাকাতকে নির্দেশ করে। সুতরাং, উদ্দীপকে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাকাত ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাসে যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম"- উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। নিম্নে এর সপক্ষে মতামত উপস্থাপন করা হলো: ১. সম্পদের সুষম বণ্টন: পুঁজিবাদী বা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সম্পদ ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত হওয়ার প্রবণতা থাকে। যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সমাজের দরিদ্র শ্রেণির নিকট স্থানান্তরিত হয়, ফলে সমাজে সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধ পায় এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। ২. ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনমান বৃদ্ধি: যাকাতের অর্থ পেয়ে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা তাদের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণে সহায়তা করে এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার জীবনযাত্রার মানের ব্যবধান কমিয়ে আনে। ৩. স্বাবলম্বিতা অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচন: পরিকল্পিতভাবে যাকাত প্রদান করলে একজন দরিদ্র ব্যক্তি ক্ষুদ্র ব্যবসা, গবাদি পশু পালন বা উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে পুঁজি হিসেবে তা ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এর ফলে সে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসে। ৪. সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা: ধনীদের সম্পদ কেবল তাদের ভোগবিলাসে সীমাবদ্ধ না থেকে তা যখন অভাবীদের উপকারে আসে, তখন দরিদ্রদের মনে ধনীদের প্রতি ক্ষোভ, হিংসা ও ঈর্ষা হ্রাস পায়। এর ফলে সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, উপরোক্ত দিকগুলো বিবেচনায় বলা যায় যে, যাকাত কেবল একটি ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং এটি সমাজ থেকে ধনী-দরিদ্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শোষণমুক্ত কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও