জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
অন্তরা শিক্ষা সফরে সুন্দরবনের করমজল যেয়ে কুমির, পাখি, হরিণসহ বিচিত্র প্রাণী দেখে খুব আনন্দ পেল।
- ক)(1)
ট্যাক্সন কী?
- খ)(2)
দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম প্রাণীটির যে পর্বের অন্তর্গত তার বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তৃতীয় প্রাণীটি দ্বিতীয় প্রাণীটি অপেক্ষা শ্রেণিতাত্ত্বিকভাবে উন্নত-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহৃত প্রতিটি ক্যাটাগরিভুক্ত অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠী বা একককে ট্যাক্সন (বহুবচনে ট্যাক্সা) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইসিজেডএন (ICZN) বা আইসিবিএন (ICBN) স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species) নামের দুটি পদের সমন্বয়ে কোনো জীবের আন্তর্জাতিক ও বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রদানের পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ (Binomial nomenclature) বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস এই পদ্ধতির প্রবর্তক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম প্রাণীটি হলো কুমির। কুমির Chordata (কর্ডাটা) পর্বের অন্তর্ভুক্ত (শ্রেণি: Reptilia)।
Chordata পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর স্থিতিস্থাপক ও দণ্ডাকার নটোকর্ড (Notochord) উপস্থিত থাকে।
২. নটোকর্ডের ঠিক উপরে একটি ফাঁপা ও নলাকার স্নায়ুরজ্জু (Nerve cord) থাকে।
৩. জীবনের যেকোনো দশায় অথবা আজীবন গলবিলের দুপাশে কয়েক জোড়া গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র (Pharyngeal gill slits) বিদ্যমান থাকে।
৪. জীবনের যেকোনো দশায় দেহের পশ্চাদ্ভাগে একটি পেশিবহুল পায়ু-পশ্চাৎ লেজ (Post-anal tail) বিদ্যমান থাকে।
৫. এদের সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং হৃদপিণ্ড অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় প্রাণীটি হলো পাখি (শ্রেণি: Aves) এবং তৃতীয় প্রাণীটি হলো হরিণ (শ্রেণি: Mammalia)। শ্রেণিতাত্ত্বিক বিবর্তনের দিক থেকে হরিণ পাখি অপেক্ষা অধিক উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. হৃৎপিণ্ড ও সংবহনতন্ত্র: পাখির ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের নিলয় দুটি সম্পূর্ণ পৃথক এবং ডান অ্যাওর্টিক আর্চ বিদ্যমান। অন্যদিকে হরিণের (স্তন্যপায়ী) বাম অ্যাওর্টিক আর্চ বিদ্যমান এবং এদের লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াস থাকে না, যা অক্সিজেন পরিবহনে অধিক কার্যকর ও উন্নত বৈশিষ্ট্য।
২. বহিঃত্বকীয় রূপান্তর ও গ্রন্থি: পাখির দেহ পালক দ্বারা আবৃত এবং ত্বক গ্রন্থিহীন (কেবল তেল গ্রন্থি থাকে)। পক্ষান্তরে হরিণের দেহ লোম দ্বারা আবৃত এবং ত্বকে ঘর্মগ্রন্থি ও সিবেসিয়াস গ্রন্থি বিদ্যমান, যা তাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উন্নত ভূমিকা রাখে।
৩. প্রজনন ও অপত্যের প্রতিপালন: পাখি অণ্ডজ (ডিম পাড়ে), কিন্তু হরিণ জরায়ুজ (সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে) এবং প্লাসেন্টা বা অমরা গঠিত হয়। হরিণের দেহে স্তনগ্রন্থি বিদ্যমান এবং মা শিশুকে দুগ্ধপান করিয়ে নিখুঁতভাবে প্রতিপালন করে, যা প্রাণিজগতে সর্বোচ্চ অভিযোজনিক সাফল্য।
৪. ডায়াফ্রাম ও কঙ্কালতন্ত্র: হরিণের বক্ষ ও উদর গহ্বরের মাঝে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা উপস্থিত, যা পাখির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। স্তন্যপায়ীর মধ্যকর্ণে তিনটি ক্ষুদ্র অস্থি (ম্যালিওস, ইনকাস, স্টেপিস) এবং বহিকর্ণে পিনা থাকে, যা পাখির থাকে না।
৫. মস্তিষ্ক ও কর্টিকাল বিকাশ: স্তন্যপায়ীর মস্তিষ্ক পাখির তুলনায় অধিক বিকশিত এবং এদের সেরেব্রাল কর্টেক্সে সংবেদনশীলতা ও বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত উচ্চ স্তরের।উপরিউক্ত তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের তৃতীয় প্রাণী হরিণ (Mammalia) দ্বিতীয় প্রাণী পাখি (Aves) অপেক্ষা শ্রেণিতাত্ত্বিকভাবে অধিক উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও