ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
যোগ্যতম একজন সাধু যখন একটি শহরে এসে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ে নিহত হন তখন ঐ শহরে তাঁর ভক্ত শ্রেণির অধিকাংশ তাঁকে ত্যাগ করেন। অথচ শাসক বদল হলে পরবর্তীতে এই ভক্ত শ্রেণি ঐ সাধু ব্যক্তির নামে দল গঠন করে এবং হত্যার প্রতিশোধ নেয়। নতুন শাসক উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তাদের কঠোর হাতে দমন করেন। শাসক নিজ বংশের ক্ষমতা স্থায়ীকরণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সমগ্র দেশে একই মুদ্রা ও একই ভাষা প্রবর্তনের ব্যবস্থা করেন। তিনি রাজস্ব নীতিতেও পরিবর্তন এনে রাজকোষ সমৃদ্ধ করেন।
- ক)(1)
ইসলামের ইতিহাসে কাকে 'রাজেন্দ্র' বা 'Father of kings' বলা হয়?
- খ)(2)
হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভক্ত শ্রেণির সাথে কুফার 'অনুশোচনাকারী' দলটির সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নতুন শাসকের কর্মকাণ্ডের আলোকে খলিফা আবদুল মালিকের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ানকে ইসলামের ইতিহাসে 'রাজেন্দ্র' বা 'Father of kings' (আবুল মুলুক) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন উমাইয়া খিলাফত আমলের একজন অত্যন্ত দক্ষ, পরাক্রমশালী সেনাপতি এবং ইরাকের গভর্নর।
তিনি খলিফা আবদুল মালিক ও প্রথম আল-ওয়ালিদের সময়ে বিদ্রোহী আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে সাম্রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। তাঁর কঠোর শাসন ও রক্তপাতের কারণে তিনি ইতিহাসে বিতর্কিত হলেও তাঁর অসামান্য প্রশাসনিক দক্ষতা, আরবি ব্যাকরণে হরকত (যের, যবর, পেশ) সংযোজন এবং সিন্ধু ও মধ্য এশিয়ায় মুসলিম বিজয় অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ভক্ত শ্রেণির সাথে ইসলামের ইতিহাসের কুফার 'তাওয়াবিন' বা অনুশোচনাকারী দলের পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন সাধু নিহত হওয়ার সময় ভক্তরা পাশে না থাকলেও পরে তারা দল গঠন করে হত্যার প্রতিশোধ নেয়। কারবালার প্রান্তরে (৬৮০ খ্রি.) হযরত ইমাম হুসাইন (রা) যখন ইয়াজিদের বাহিনীর দ্বারা নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন, তখন কুফাবাসী তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও ভীতি ও দোদুল্যমানতার কারণে তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। ইমামের মৃত্যুর পর তাঁদের মধ্যে তীব্র অনুশোচনা ও পাপবোধ জাগ্রত হয়। ফলে সুলাইমান ইবনে সুরদের নেতৃত্বে তারা 'তাওয়াবিন' (অনুশোচনাকারী) দল গঠন করে কারবালার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণ এবং নিজেদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে উমাইয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে আত্মঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। উদ্দীপকের ভক্ত শ্রেণির আচরণ ও গতিপ্রকৃতি কুফার এই অনুশোচনাকারীদের ঘটনার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নতুন শাসকের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর আলোকে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, তিনি ছিলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত স্থপতি।
উদ্দীপকের নতুন শাসক যেভাবে কঠোর হস্তে বিশৃঙ্খলা দমন করেন এবং মুদ্রা, ভাষা ও রাজস্ব নীতির সংস্কার সাধন করেন, খলিফা আবদুল মালিকও খিলাফতের অস্তিত্ব রক্ষায় ঠিক একই ধরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন:
১. বিদ্রোহ দমন ও সাম্রাজ্য সুসংহতকরণ: খলিফা আবদুল মালিক আবদুল্লাহ বিন জুবায়েরের খিলাফত দাবি, মুখতারের বিদ্রোহ এবং তাওয়াবিন ও খারিজিদের বিদ্রোহ সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহায়তায় কঠোরভাবে দমন করে সাম্রাজ্যে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
২. আরবি ভাষার প্রবর্তন (আরবিকরণ): তিনি রোমান ও পারস্য ভাষার পরিবর্তে আরবিকে সাম্রাজ্যের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ও দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে চালু করেন, যা মুসলিম উম্মাহকে এক সূত্রে বাঁধে।
৩. নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা: বাইজেন্টাইন ও পারস্য মুদ্রার পরিবর্তে তিনি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি খচিত নিজস্ব স্বর্ণমুদ্রা (দিনার), রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম) ও তাম্রমুদ্রা (ফালস) প্রচলন করেন।
৪. রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার: তিনি জিজিয়া ও খারাজ সংক্রান্ত নীতি সংস্কার করে রাজস্ব ব্যবস্থার পুনর্গঠন করেন, যার ফলে রাজকোষ সমৃদ্ধ হয়।সুতরাং, উদ্দীপকের নতুন শাসকের কর্মকাণ্ড খলিফা আবদুল মালিকের রাষ্ট্রনায়কোচিত সংস্কার ও উমাইয়া খিলাফতকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার ঐতিহাসিক ভূমিকার হুবহু প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও