মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
আলেয়া ছেলেকে বারবার চেষ্টা করে 'ঋ' বর্ণটি শেখায় এবং সে স্কুলে বর্ণটি লিখতে পারে। আলেয়া কন্যা মিলিকে বিজ্ঞান পড়াতে গিয়ে লক্ষ করল অনেক বিষয় চর্চার অভাবে ভুলে গিয়েছে। মিলি। ভালো করে পড়লেও পরীক্ষায় ভালো লিখতে পারে না।
- ক)(1)
অন্তঃদৃষ্টিমূলক শিক্ষণ কী?
- খ)(2)
বলবর্ধক শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে কীভাবে?
- গ)(3)
আলেয়ার ছেলেকে বর্ণ শেখার প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে আলেয়া ও মিলির বিস্তৃতির কারণ কি একই? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমস্যার সামগ্রিক পরিস্থিতি বা উপাদানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করে আকস্মিকভাবে কোনো সমস্যার সমাধান বের করার মাধ্যমে যে শিক্ষণ অর্জিত হয়, তাকে অন্তঃদৃষ্টিমূলক শিক্ষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বলবর্ধক বা উদ্দীপক কোনো প্রতিক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে, যা শিক্ষণকে দ্রুত ও কার্যকর করে। উপযুক্ত বলবর্ধনের (যেমন: পুরস্কার, প্রশংসা বা সন্তুষ্টি) উপস্থিতিতে প্রাণী বা ব্যক্তি উদ্দিষ্ট আচরণটি বারবার করতে উৎসাহিত হয় এবং অবাঞ্ছিত আচরণগুলো বর্জন করে। ফলে আচরণটি দ্রুত স্থায়ী রূপ লাভ করে এবং শিক্ষণ ত্বরান্বিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলেয়ার ছেলেকে বর্ণ শেখার প্রক্রিয়াটি মনোবিজ্ঞানী থর্নডাইকের 'প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধন শিক্ষণ' (Trial and Error Learning) পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
এই শিক্ষণ পদ্ধতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে অর্জিত হয় না, বরং বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে ভুল প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পায় এবং সঠিক প্রতিক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে আলেয়া তার ছেলেকে বারবার চেষ্টা করিয়ে 'ঋ' বর্ণটি লেখানো শেখায়। প্রথম দিকে বারবার লিখতে গিয়ে হয়তো ছেলেটি ভুল করেছিল, কিন্তু ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের ফলে ভুলগুলো দূর হয় এবং সে সঠিকভাবে বর্ণটি লিখতে সক্ষম হয়। অতএব, আলেয়ার ছেলের বর্ণ শেখা হলো প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে আলেয়া ও মিলির বিস্তৃতির কারণ এক নয়; তাদের বিস্তৃতির পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ বিদ্যমান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলেয়া বিজ্ঞান পড়াতে গিয়ে লক্ষ করল অনেক বিষয় সে চর্চার অভাবে ভুলে গেছে। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় 'অব্যব্যবহারজনিত ক্ষয়' (Disuse Theory)। কোনো বিষয় বা তথ্য শেখার পর যদি তা দীর্ঘদিন অনুশীলন বা পুনরাবৃত্তি না করা হয়, তবে মস্তিষ্কে সৃষ্ট স্মৃতির ছাপ বা স্মৃতিচিহ্ন (Memory Trace) সময়ের সাথে সাথে দুর্বল ও বিলীন হয়ে যায়। আলেয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চর্চার অভাবই হলো বিস্তৃতির মূল কারণ।
অন্যদিকে, মিলি ভালো করে পড়লেও পরীক্ষায় ভালো লিখতে পারে না। এটি ঘটে মূলত 'উদ্বেগ' বা 'পরীক্ষাভীতি' এবং 'পুনরুদ্ধারের ব্যর্থতা' (Retrieval Failure)-র কারণে। অনেক সময় পরীক্ষার চাপের ফলে শিক্ষার্থী মানসিক চাপে ভোগে, যার ফলে তথ্য সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও তা সময়মতো পুনরুদ্ধার বা স্মরণে আনা সম্ভব হয় না। এছাড়া যথাযথ ধারণ বা সংরক্ষণের অভাব অথবা প্রতিলক্ষণগত বাধার ফলেও এমনটি ঘটতে পারে।
সুতরাং, আলেয়ার বিস্তৃতি ঘটেছে অব্যবহার বা চর্চার অভাবে, আর মিলির ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে মানসিক চাপ, উদ্ধার ব্যর্থতা বা অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক কারণ। তাই তাদের বিস্তৃতির কারণ একই নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও