সমাজকর্ম ২য় পত্র • বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ ইউনুস। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো বিনা জামানতে গ্রামীন ভূমিহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণ প্রদান। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
- ক)(1)
ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
ব্রাকের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্র্যাক (BRAC)-এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্র্যাক-এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ ও সুবিধাহীন জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন এবং তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে দরিদ্র নারী ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলে দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাই এর মূল লক্ষ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর একটি বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য—যেমন ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক প্রতিষ্ঠা, ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক যাত্রা, বিনা জামানতে গ্রামীণ ভূমিহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণদান এবং ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি—সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাস ও সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সাথে মিলে যায়। এটি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী বেসরকারি/বিশেষায়িত উদ্যোগ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণ ভূমিহীন ও নিঃস্ব মানুষকে কোনো প্রকার স্থাবর জামানত ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে। এর ফলে তারা কৃষি, পশুপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ পায়, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের সিংহভাগ গ্রহীতাই গ্রামীণ দরিদ্র নারী। ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে, যা পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
৩. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাঋণ ও বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকটি শিক্ষা প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
৪. গৃহনির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা: সদস্যদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান করে বাসস্থানের সমস্যা সমাধান এবং সেনিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গ্রামীণ ব্যাংক সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও