সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সামাজিক অসমতা কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক নিরাপত্তা ধারণাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন প্রত্যয়টি নির্দেশ -করে? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে প্রযোজ্য প্রত্যয়টির যেকোনো একটি ধরন বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা, সম্পদ এবং মর্যাদার অসম বণ্টনজনিত বৈষম্যমূলক অবস্থাকে সামাজিক অসমতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক নিরাপত্তা বলতে সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত এমন এক ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বা কর্মসূচিকে বোঝায়, যা নাগরিকের অসুস্থতা, বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব বা অন্য কোনো আকস্মিক দুর্যোগের সময় অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা দেয়। আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মৌলিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সামাজিক বীমা, সামাজিক সাহায্য এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'সামাজিক স্তরবিন্যাস' প্রত্যয়টি নির্দেশ করে।

    সমাজবিজ্ঞানী টি. বি. বটমোর তাঁর 'Sociology: A Guide to Problems and Literature' গ্রন্থে সামাজিক স্তরবিন্যাসের চারটি প্রধান রূপ বা ধরনের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো— দাস প্রথা, এস্টেট প্রথা, জাতিবর্ণ প্রথা এবং সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদাগোষ্ঠী।

    উদ্দীপকের ছকটিতে দেখা যাচ্ছে, চারদিকে দাস প্রথা, জাতিবর্ণ প্রথা, এস্টেট প্রথা এবং শ্রেণি ও মর্যাদাগোষ্ঠী নির্দেশ করা হয়েছে। এগুলো ঐতিহাসিকভাবে মানবসমাজে সামাজিক স্তরবিন্যাসেরই বিভিন্ন স্তর বা রূপ। স্তরবিন্যাস মূলত সমাজকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করার একটি সার্বজনীন প্রক্রিয়া, যার ভিত্তিতে সমাজের ব্যক্তিবর্গ ক্ষমতা, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে উচ্চ-নীচ স্তরে বিন্যস্ত থাকে। অতএব, উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'সামাজিক স্তরবিন্যাস' প্রত্যয়টি নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে প্রযোজ্য প্রত্যয়টি হলো 'সামাজিক স্তরবিন্যাস'। নিচে এর একটি প্রধান ধরন 'দাস প্রথা' (Slavery) বিশ্লেষণ করা হলো:

    দাস প্রথা হলো সামাজিক অসমতা ও স্তরবিন্যাসের অন্যতম চরম ও প্রাচীনতম রূপ। এটি এমন এক সামাজিক ব্যবস্থা যেখানে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির আইনগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। দাস ব্যবস্থায় একজন দাস তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং জীবনের সকল সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত থাকত এবং তাকে মালিকের সম্পত্তি হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা যেত।

    সমাজবিজ্ঞানী এল. টি. হবহাউসের মতে, দাস হলো এমন এক ব্যক্তি যাকে আইন ও প্রথা অন্যের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করে। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে দাস প্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই ব্যবস্থায় সমাজ মূলত দুটি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত ছিল— দাস মালিক এবং দাস। দাসদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অধিকার ছিল না; তারা বাধ্যতামূলকভাবে শারীরিক পরিশ্রম করত এবং উৎপাদনের প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে মালিক শ্রেণি উৎপাদন ও দাসদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে ভোগ-বিলাসের জীবন যাপন করত।

    পরিশেষে বলা যায়, দাস প্রথা ছিল সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি অনমনীয় এবং চরম বৈষম্যমূলক রূপ, যা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সামন্তবাদী এস্টেট ব্যবস্থা এবং আধুনিক শ্রেণি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন