ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশ্বে চলমান করোনা মহামারির কারণে ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায় সবকিছু। এজন্য সরকার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা মানবিকতাপূর্ণ কার্যক্রম চালান। মাওলানা আনিস সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে থাকবেন।

  1. ক)

    মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি কে?

    (1)
  2. খ)

    মুমিন ব্যক্তি পরনিন্দুক হবে না' – ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ব্যবসার প্রকৃতি ও পদ্ধতি হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মাওলানা আনিস সাহেবের বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাদিস শরিফ অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হলো দ্বিমুখী চরিত্রের লোক (মুনাফিক), যে এক দলের কাছে এক রূপ এবং অন্য দলের কাছে অন্য রূপ নিয়ে উপস্থিত হয়। (এছাড়াও কৃপণ, গীবতকারী বা মজুদদার প্রসঙ্গেও হাদিসের বর্ণনা রয়েছে, তবে সাধারণ পাঠ্যবই অনুসারে দ্বিমুখী ব্যক্তিই সর্বাধিক নিকৃষ্ট)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরনিন্দা বা গীবত ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত ও কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনে পরনিন্দাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। একজন প্রকৃত মুমিন সর্বদা অন্যের দোষত্রুটি গোপন রাখে এবং নিজের চরিত্র পরিশুদ্ধ রাখতে সচেষ্ট থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। পরনিন্দা সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি বিনষ্ট করে এবং মানুষের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। তাই একজন প্রকৃত মুমিন কখনোই পরনিন্দুক হতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামে ব্যবসাকে একটি পবিত্র ও সৎ পেশা বা জীবিকা উপার্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হাদিসের আলোকে ব্যবসার প্রকৃতি ও পদ্ধতি নিম্নরূপ:

    ১. সততা ও বিশ্বস্ততা: ব্যবসায় মিথ্যা শপথ, প্রতারণা, মাপে কম দেওয়া এবং ওজনে কারচুপি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন পণ্য ক্রয়ের ও বিক্রয়ের সময় উদারতা প্রদর্শন করতে এবং সততার সাথে লেনদেন করতে।

    ২. মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট পরিহার: অধিক মুনাফার লোভে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। হাদিসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন তা মজুদ করে রাখবে, সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।'

    ৩. পণ্যের দোষ প্রকাশ করা: পণ্যের কোনো ত্রুটি থাকলে তা গোপন না করে ক্রেতার সামনে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা বিক্রেতার নৈতিক দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।'

    ৪. সহজ ও নমনীয় আচরণ: ব্যবসার লেনদেন ও দেনা-পাওনা আদায়ে পারস্পরিক সহনশীলতা ও মানবিক আচরণ কাম্য। অতএব, ব্যবসার মূল প্রকৃতি হবে সেবামূলক, সৎ ও মানবকল্যাণমুখী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাওলানা আনিস সাহেবের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহিহ হাদিসের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

    হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন— 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবীগণ, সিদ্দিকীন ও শহিদদের সাথে অবস্থান করবেন।' (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, করোনা মহামারির মতো সংকটকালে যখন ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফাখোরি ও মজুদদারিতে লিপ্ত হয়। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে মাওলানা আনিস সাহেব ব্যবসায়ীদের সততা ও মানবিকতার গুরুত্ব বোঝাতে উক্ত হাদিসের উদ্ধৃতি দেন।

    একজন সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কখনো মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা বা পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন না; বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে স্বল্প লাভে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেন। এই নিঃস্বার্থ সততা ও ত্যাগ জিহাদের সমতুল্য হওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাঁদের পরকালে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন এবং শহিদদের সমমর্যাদায় ভূষিত করবেন।

    অতএব, মাওলানা আনিস সাহেবের প্রদত্ত বক্তব্যটি ইসলামিক শিক্ষার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন