ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব ‘গ' সমাজে নেতৃত্ব দেন। বিভিন্ন সময় মানুষের সাথে ওয়াদা করেন কিন্তু একটিও বাস্তবে পূরণ করেননি। মসজিদের ইমাম সাহেব জুমার খুতবায় জনাব ‘গ' কে উদ্দেশ্য করে আয়াত পাঠ করে শোনান—
فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ.
- ক)(1)
خليفة (খলিফা) অর্থ কী?
- খ)(2)
إِنِّي أَعْلَمُ مَا تَعْلَمُونَ (আমি যা জানি তা তোমরা জান না) ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব ‘গ'-এর চরিত্রে কাদের সামঞ্জস্যতা রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আয়াতের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
خليفة (খলিফা) শব্দের অর্থ প্রতিনিধি, উত্তরাধিকারী বা স্থলাভিষিক্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত আয়াতাংশটি সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতের অংশ। আল্লাহ তাআলা যখন পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করে প্রতিনিধি বানানোর ইচ্ছা ফেরেশতাদের কাছে প্রকাশ করেন, তখন ফেরেশতারা মানুষের রক্তপাত ও ফাসাদ সৃষ্টির আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছিল। এর জবাবে মহান আল্লাহ তাঁদের উদ্দেশ্য করে বলেন—'নিশ্চয় আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।' অর্থাৎ সৃষ্টির পেছনে মহান আল্লাহর যে পরম প্রজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে, তা সাধারণ ফেরেশতাদের জ্ঞানের অগম্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব 'গ'-এর চরিত্রে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যের সামঞ্জস্য রয়েছে।
মুনাফিক হলো এমন ব্যক্তি, যে মুখে ঈমান বা সততার দাবি করে কিন্তু অন্তরে কুফর বা কপটতা পোষণ করে। হাদিস শরিফে মুনাফিকের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে বলা হয়েছে—যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং তার কাছে কোনো আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'গ' সমাজের নেতা হয়েও মানুষের সাথে ওয়াদা করে একটিও পূরণ করেননি। এই ওয়াদাভঙ্গ ও মিথ্যাচার মুনাফিক চরিত্রের প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ। এ কারণেই ইমাম সাহেব মুনাফিকদের শাস্তি ও ব্যাধি সম্পর্কিত সুরা বাকারার ১০ নম্বর আয়াতটি পাঠ করে তাকে সতর্ক করেন। সুতরাং জনাব 'গ'-এর আচরণ মুনাফিকদের স্বভাবের অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আয়াতটি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১০ নম্বর আয়াত, যা মূলত মদিনার মুনাফিকদের হীন মানসিকতা ও কপট আচরণের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর যখন মুসলিমদের শক্তি ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মতো কিছু সুযোগসন্ধানী কুচক্রী সামাজিক মর্যাদা হারানোর ভয়ে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে। কিন্তু তাদের অন্তরে ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি তীব্র হিংসা, বিদ্বেষ ও সন্দেহ লুকায়িত ছিল। তারা বাহ্যিকভাবে নিজেদের শান্তি স্থাপনকারী দাবি করলেও ভেতরে ভেতরে কাফির ও ইহুদিদের সাথে আঁতাত করে ইসলামের ক্ষতি সাধনে লিপ্ত হতো।
আল্লাহ তাআলা তাদের এই কপট মানসিকতাকে 'অন্তরব্যাধি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা যতবারই মুসলমানদের সাথে প্রতারণা ও মিথ্যাচার করত, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের এই অন্তরের ব্যাধি ও বিভ্রান্তি আরও বৃদ্ধি পেত। ফলে ইহকালীন লাঞ্ছনার পাশাপাশি পরকালে তাদের জন্য চরম ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। অতএব, আয়াতটির প্রেক্ষাপট হলো মদিনার মুনাফিকদের দ্বিচারিতা ও ইসলাম-বিরোধিতার স্বরূপ উন্মোচন করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও