‍ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

একদল ব্যবসায়ী বাণিজ্য করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় আগমন করে। সেখানে তারা লক্ষ্য করে যে, বাণিজ্য করার চেয়ে শাসন ক্ষমতা দখল করতে পারলে অনেক বেশি লাভবান হতে পারবে। 'তারা কৌশলে সেই অঞ্চলের ক্ষমতা হস্তগত করে। আর্থিক ক্ষমতা তারা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এ সময় ঐ অঞ্চলে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

  1. ক)

    ভারতবর্ষে সবশেষে আগমন করে কারা?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনার নেতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতবর্ষে সবশেষে আগমন করে ফরাসিরা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৬৫ সালে লর্ড রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে 'দ্বৈতশাসন' বলা হয়। এ ব্যবস্থায় কোম্পানি লাভ করে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার রাজস্ব আদায়ের অধিকার বা 'দেওয়ানি' (দায়িত্বহীন ক্ষমতা) এবং নবাবের হাতে থাকে অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার মতো শাসন পরিচালনার ভার বা 'নিজামত' (ক্ষমতাহীন দায়িত্ব)। ক্ষমতার এই বিভাজনই ইতিহাসে দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত 'দ্বৈতশাসন' ও এর ফলে সৃষ্ট 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' (১১৭৬ বঙ্গাব্দ/১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, একদল ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষমতা হস্তগত করার পর ওই অঞ্চলে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

    বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর রাজস্ব আদায়ের সর্বময় কর্তৃত্ব গ্রহণ করে কিন্তু জনগণের সুরক্ষার কোনো দায়িত্ব নেয়নি। কোম্পানি অতিরিক্ত কর ও রাজস্ব আদায়ের জন্য সাধারণ কৃষক ও প্রজাদের ওপর চরম অত্যাচার চালায়। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যদিকে কোম্পানির বিবেকহীন শোষণ ও অতিরিক্ত করের বোঝার ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ সালে) এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি দ্বৈতশাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন ও তার ফলে সৃষ্ট ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের নেতিবাচক ফলাফল ছিল বাংলার সমাজ, অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য চরম বিপর্যয়কর।

    দ্বৈতশাসনের ফলে কোম্পানির কর্মচারীরা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে লিপ্ত হয় এবং নবাব নিধিরাম সর্দারে পরিণত হওয়ায় দেশজুড়ে অরাজকতা ও চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কোম্পানি কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে খাদ্যশস্য মজুদ করে এক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬) নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

    এই মন্বন্তরে তৎকালীন বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। বহু গ্রাম জনমানবহীন হয়ে পড়ে, কৃষি উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। বাংলার সমৃদ্ধ অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যায় এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। এভাবে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা পুরো বাংলাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন