পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
সুমনের কলেজের ছাত্রদের সংসদ অধিবেশন প্রত্যেক্ষ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তারা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের প্রাণবন্ত আলোচনা, নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তোর, সারগর্ভ ভাষণ আগ্রহের সাথে শোনে। সুমন এই অভিজ্ঞতা দেশের বাইরে 'ক' দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী তার বড় ভাই বিপুলকে বললে, বিপুল বলে এ দেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন এবং মন্ত্রীগণ রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন।
- ক)(1)
গণতন্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
পরোক্ষ নির্বাচন কী বুঝিয়ে লেখো?
- গ)(3)
সুমনের দেশে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুমনের দেশের সরকার ব্যবস্থার সাথে 'ক' দেশের সরকার ব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক গেটেলের মতে, "যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এবং যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছানুসারে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাকে গণতন্ত্র বলে।" (অথবা আব্রাহাম লিংকনের মতে, "গণতন্ত্র হলো জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।")
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরোক্ষ নির্বাচন হলো এমন একটি নির্বাচনী পদ্ধতি, যেখানে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি সরকারপ্রধান বা প্রতিনিধি নির্বাচন না করে প্রথমে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচকমণ্ডলী (Electoral College) বা সংসদ সদস্য নির্বাচন করেন এবং সেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পরবর্তীতে সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপতি বা উচ্চপদের কর্মকর্তাদের নির্বাচিত করেন। যেমন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি পরোক্ষ নির্বাচনের উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুমনের দেশে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা (Parliamentary Form of Government) বিদ্যমান।
ব্যাখ্যা: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনসভা বা জাতীয় সংসদই হলো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। এই শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রীরা আইনসভার সদস্য হন এবং তাদের নীতি ও কাজের জন্য আইনসভার নিকট সম্মিলিতভাবে দায়ী থাকেন। আইনসভার অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্রাণবন্ত বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে আইনসভা নির্বাহী বিভাগের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। উদ্দীপকে সুমন তার কলেজের বন্ধুদের সাথে সংসদে গিয়ে সদস্যদের প্রাণবন্ত আলোচনা, নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর ও সারগর্ভ ভাষণ প্রত্যক্ষ করে—যা সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রধান লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, সুমনের দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমনের দেশে বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থাটি হলো সংসদীয় (মন্ত্রিপরিষদ শাসিত) এবং 'ক' দেশে বিদ্যমান ব্যবস্থাটি হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। নিম্নে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের পদমর্যাদা: সুমনের দেশে (সংসদীয় ব্যবস্থা) রাষ্ট্রপতি নামমাত্র বা নিয়মতান্ত্রিক প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীই সরকারপ্রধান হিসেবে প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। পক্ষান্তরে, 'ক' দেশে (রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা) রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং তিনি প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী।
২. আইনসভার নিকট জবাবদিহিতা: সুমনের দেশের শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাকে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু 'ক' দেশের রাষ্ট্রপতি ও তার মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না; মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন।
৩. মন্ত্রীদের নিযুক্তি ও অপসারণ: সংসদীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু 'ক' দেশের রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সংসদের বাইরে থেকেও নিজ পছন্দ অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন এবং তার ইচ্ছানুযায়ী তাদের বরখাস্ত করতে পারেন।
৪. আইনসভা ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক: সংসদীয় পদ্ধতিতে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। অপরদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কঠোর প্রয়োগ দেখা যায়।
সুতরাং, শাসন ক্ষমতার প্রয়োগ, মন্ত্রীদের দায়বদ্ধতা এবং কাঠামোগত দিক থেকে উভয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও