‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব করিম সাহেব এক পুত্র আলোক ও দুই কন্যা সুমাইয়া ও সুশমিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর সুমাইয়া ও সুশমিতা ভাইয়ের নিকট পিতৃসম্পত্তি দাবি করলে জনাব আলোক বোনদের সম্পত্তি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। ফলে ২ বোন মামলা করেন। মামলার রায়ে সুমাইয়া ও সুমিতা তাদের সম্পত্তির অধিকার অর্জন করেন।

  1. ক)

    আইন সম্পর্কে জন অস্টিনের সংজ্ঞাটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    আইনের উৎসসমূহের বর্ণনা দাও।

    (2)
  3. গ)

    সুমাইয়া ও সুশমিতা যে আইন বলে সম্পত্তির অধিকার অর্জন করে সে আইনের উৎস ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আইন ও নৈতিকতার কোনো সম্পর্ক আছে বলে কি তুমি মনে করো? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "আইন হলো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ" (Law is the command of the sovereign)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের প্রধান প্রধান উৎসসমূহ হলো:
    ১. প্রথা: দীর্ঘকাল ধরে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি বা অভ্যাস যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।
    ২. ধর্ম: বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও অনুশাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন উৎস।
    ৩. বিচারকের রায় বা বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত: প্রচলিত আইনের অস্পষ্টতার ক্ষেত্রে বিচারপতির দূরদর্শী ব্যাখ্যা ও রায় পরবর্তীতে আইনের মর্যাদা পায়।
    ৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা আইনবিদদের গ্রন্থ: বিশিষ্ট আইনজ্ঞদের প্রামাণ্য গ্রন্থ ও ভাষ্য।
    ৫. ন্যায়বোধ: পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রচলিত আইনের অসম্পূর্ণতা দূর করতে বিচারকদের ন্যায়পর বিচার।
    ৬. আইনসভা: আধুনিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের প্রধান ও মৌলিক উৎস হলো আইনসভা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমাইয়া ও সুশমিতা মামলার রায়ের মাধ্যমে যে আইন বলে সম্পত্তির অধিকার অর্জন করে, তার মূল উৎস হলো ধর্ম ও বিচারিক সিদ্ধান্ত বা আইনসভা প্রণীত সংবিধিবদ্ধ আইন (পারিবারিক/উত্তরাধিকার আইন)।

    ব্যাখ্যা: বাংলাদেশে বা উপমহাদেশীয় পারিবারিক আইনে উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অংশ নির্ধারণ মূলত ধর্মীয় অনুশাসন (যেমন- মুসলিম আইন, হিন্দু আইন ইত্যাদি) এবং রাষ্ট্রীয় আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদ্দীপকে ভাই আলোক বোনদের অংশ দিতে অস্বীকার করলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইন ও সংবিধিবদ্ধ আইনের সুস্পষ্ট প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বোনদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং, এখানে আইনের ধর্মীয় উৎস ও বিচার বিভাগীয় প্রয়োগ বা রায় প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি আইন ও নৈতিকতার মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

    আইন ও নৈতিকতার সম্পর্ক নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য মূলত একই—উভয়ই মানবকল্যাণ, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তির ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে চায়।
    ২. নৈতিকতাই আইনের ভিত্তি: অধিকাংশ আইনের ভিত্তি হলো সামাজিক নৈতিকতা। যেমন—চুরি করা, প্রতারণা করা বা হত্যা করা নৈতিকভাবে গর্হিত এবং একই সাথে আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
    ৩. একে অপরের পরিপূরক: নৈতিক নিয়মগুলোর পেছনে যখন রাষ্ট্রের সার্বভৌম শক্তি যুক্ত হয়, তখন তা আইনে পরিণত হয়। আবার ন্যায়সঙ্গত আইন সমাজকে অধিকতর নৈতিক করে তুলতে সহায়তা করে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, আলোক তার বোনদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অনৈতিক আচরণ করেছিলেন। আইন আদালতের মাধ্যমে সেই অনৈতিকতাকে দমন করে সুমাইয়া ও সুশমিতার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং, আইন ও নৈতিকতা পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন