সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষার বণ্টন উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকব্যবহৃত ভাষাপূর্ব পাকিস্তানপশ্চিম পাকিস্তানমোট
১বাংলা৯৮.৪২%০.১২%৫৬%
২উর্দু০.০২%৬৬.৩৯%২৯%
৩পাঞ্জাবি০.৬১%৭.৫৭%৩.৬৫%
  1. ক)

    'নোকনা' কী?

    (1)
  2. খ)

    'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছকটি কোন ধরনের বৈষম্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বৈষম্য থেকে সৃষ্ট আন্দোলনই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা- যুক্তির সপক্ষে মতামতসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'নোকনা' হলো গারো সমাজের ঐতিহ্যবাহী মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যাসন্তান বা উত্তরাধিকারিণী, যে পারিবারিক সম্পত্তির প্রধান অংশ লাভ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অপারেশন সার্চলাইট' হলো ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য পরিচালিত এক বর্বর ও নৃশংস সামরিক অভিযান বা গণহত্যা। এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকটি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য'কে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় দেখা যায়, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি (৫৬%) ছিল বাংলাভাষী, যাদের প্রায় শতভাগই বাস করত পূর্ব পাকিস্তানে। পক্ষান্তরে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলা হলেও সমগ্র পাকিস্তানে উর্দুভাষী ছিল মাত্র ৩% এর কাছাকাছি (উদ্দীপকে প্রদত্ত সারণি অনুযায়ী পাকিস্তানের পশ্চিমাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশসহ জাতীয় পর্যায়ে উর্দুভাষীর হার ছিল অতি নগণ্য)। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে উপেক্ষা করে সংখ্যালঘু উর্দুভাষী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বাঙালি জাতির ওপর গভীর ভাষাগত বৈষম্য চাপিয়ে দেয়।

    উদ্দীপকের ছকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, পূর্ব পাকিস্তানের ৯৮.৪২% মানুষের ভাষা বাংলা এবং সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬% মানুষের ভাষা হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষাগত আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। এটি চরম ভাষাগত ও রাজনৈতিক বৈষম্যের নির্লজ্জ প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষাগত বৈষম্য থেকে সৃষ্ট ভাষা আন্দোলনই প্রকৃতপক্ষে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল প্রেরণা—উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরপরই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার যে অপচেষ্টা চলে, তা ছিল বাঙালিদের জাতিসত্তা বিলুপ্ত করার এক সাংস্কৃতিক ষড়যন্ত্র। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি আত্মবলিদানের বিনিময়ে মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালিরা উপলব্ধি করে যে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অধীনে তাদের ধর্মীয় পরিচিতির চেয়ে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা অধিক জরুরি।

    ভাষা আন্দোলনের সাফল্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ রোপণ করে। ভাষার অধিকার রক্ষার লড়াই পরবর্তীকালে ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন—প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে কাজ করেছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা। এই চেতনা বাঙালিকে স্বাধিকার থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার দিকে পরিচালিত করে, যার চূড়ান্ত রূপ ছিল ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

    অতএব, বলা যায় ভাষাভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়েছিল, যা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন