মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক কে?
- খ)(2)
সামগ্রিক আচরণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'A' চিহ্নিত স্থানটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'C' ও 'D'চিহ্নিত স্থান দু'টির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক হলেন উইলহেম ভুন্ট (Wilhelm Wundt)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বা খণ্ড খণ্ড আচরণের সমন্বয়ে যখন একটি পূর্ণাঙ্গ বা জটিল আচরণ প্রকাশ পায়, তখন তাকে সামগ্রিক আচরণ বলে।
যেমন—গাড়ি চালানো, ফুটবল খেলা বা ক্লাসে পাঠদান করা। গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কেবল হাত দিয়ে স্টিয়ারিং ঘোরানো নয়; বরং চোখ দিয়ে রাস্তা দেখা, পা দিয়ে এক্সিলারেটরে চাপ দেওয়া, মন দিয়ে সতর্ক থাকা ইত্যাদি বহু ক্ষুদ্র আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো গাড়ি চালানোর সামগ্রিক আচরণ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞান'-এর চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের কাঠামো উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় উপাদানটি হলো 'বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি'। সেই অনুযায়ী 'A' চিহ্নিত স্থানটি মনোবিজ্ঞানের 'নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু' (Subject Matter)-কে নির্দেশ করে।
যেকোনো বিষয় বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে তার নিজস্ব ও সুস্পষ্ট বিষয়বস্তু থাকা আবশ্যক। মনোবিজ্ঞানের প্রধান বিষয়বস্তু হলো মানুষ ও প্রাণীর 'আচরণ' এবং 'মানসিক প্রক্রিয়া'। মানুষ কীভাবে চিন্তা করে, আবেগ অনুভব করে, বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেয় এবং শেখে—এসব কিছুই মনোবিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু। মনোবিজ্ঞান কোনো কাল্পনিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে না, বরং বাহ্যিক আচরণ এবং অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়াসমূহ বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে। ফলে বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য যে সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রয়োজন, মনোবিজ্ঞানের তা পরিপূর্ণভাবে রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞান'-এর ভিত্তিসমূহ দেখানো হয়েছে। বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মনোবিজ্ঞানের চারটি শর্ত হলো—(A) বিষয়বস্তু, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, (C) পরীক্ষাগার/গবেষণাগার এবং (D) ব্যবহারিক প্রয়োগ বা সার্বজনীনতা/ভবিষ্যদ্বাণী। নিচে 'C' (পরীক্ষাগার) ও 'D' (ব্যবহারিক প্রয়োগ/ভবিষ্যদ্বাণী)-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: 'C' অর্থাৎ পরীক্ষাগার হলো একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, যেখানে গবেষক বিভিন্ন চল নিয়ন্ত্রণ করে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার কার্যকারণ সম্পর্ক উদঘাটন করেন। অন্যদিকে, 'D' অর্থাৎ প্রয়োগযোগ্যতা হলো প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও তত্ত্বকে মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান এবং কল্যাণে ব্যবহারের ক্ষমতা।
২. ঐতিহাসিক ও পদ্ধতিগত ভূমিকা: ১৮৭৯ সালে জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে উইলহেম ভুন্ট প্রথম মনোবিজ্ঞান পরীক্ষাগার স্থাপন করে মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের মর্যাদায় আসীন করেন। পরীক্ষাগারে নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কৃত হয়। অপরপক্ষে, সেই গবেষণালব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মানুষের আচরণ সংশোধন, মানসিক রোগ নিরাময় (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি), কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (শিল্প মনোবিজ্ঞান) এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সাধন হলো 'D' এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. বিজ্ঞান হিসেবে উভয়ের গুরুত্ব: কেবল পরীক্ষাগার থাকলেই কোনো বিষয় ফলপ্রসূ হয় না, যদি না তার বাস্তব প্রয়োগ থাকে। আবার বাস্তব প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রয়োজন হয়।
অতএব, 'C' ও 'D' একে অপরের পরিপূরক হিসেবে মনোবিজ্ঞানকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও