সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সিফাত শৈশবেই মা-বাবাকে হারিয়েছে। জগতে আপন বলতে কেউ নেই। ১৬ বছর পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠান তাকে আশ্রয় দিয়ে তার ভরণপোষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে। এখানে বসবাস করেই সে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
সরাইখানা কী?
- খ)(2)
দেবোত্তর বলতে কি বুঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সিফাতের কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বেড়ে উঠেছে ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরাইখানা হলো প্রাচীন বা মধ্যযুগে দূরবর্তী পথিক, পর্যটক ও অসহায় মানুষের জন্য নির্মিত বিনামূল্যে অস্থায়ীভাবে থাকা-খাওয়ার সেবামূলক বিশ্রামাগার বা পান্থশালা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা, মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধর্মীয় ও দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গকৃত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিকে 'দেবোত্তর' বলা হয়। এ সম্পত্তি কখনো হস্তান্তর বা বিক্রয় করা যায় না এবং এর আয় কেবল ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়িত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সিফাত 'এতিমখানা' বা 'সরাই/আশ্রয়কেন্দ্র' (বিশেষত ঐতিহ্যগত এতিমখানা/অনাথ আশ্রম) নামক ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বেড়ে উঠেছে।
ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এতিমখানা বা অনাথ আশ্রমের মূল কাজ হলো সমাজে মা-বাবাহীন, নিঃস্ব, পরিত্যক্ত ও অসহায় শিশুদের লালন-পালন, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সিফাত শৈশবে পিতা-মাতা হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। একটি প্রতিষ্ঠান তাকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত আশ্রয়, অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার সংস্থান দেয় এবং সেখানে থেকেই সে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এতিমখানা বা অনাথ আশ্রমের বৈশিষ্ট্য ও লক্ষ্য সিফাতের জীবনের এই সুরক্ষার সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং সিফাত ঐতিহ্যগত 'এতিমখানা' প্রতিষ্ঠানে বেড়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'এতিমখানা' (বা অনাথ আশ্রম)। মানবকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তায় এতিমখানার গুরুত্ব অপরিসীম।
১. আশ্রয়হীনদের মৌলিক চাহিদা পূরণ: পিতৃ-মাতৃহীন, নিঃস্ব ও সহায়সম্বলহীন শিশুদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো এতিমখানার মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়।
২. সামাজিক পুনর্বাসন: শুধু আশ্রয় দিয়েই এতিমখানার দায়িত্ব শেষ হয় না; শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করে স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসিত করা হয়।
৩. অপরাধ প্রবণতা রোধ: পথশিশু বা অসহায় অভিভাবকহীন শিশুরা অভিভাবকত্বের অভাবে অনেক সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতিমখানা তাদের সুশৃঙ্খল পরিবেশে রেখে সঠিক নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলে।
৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন: সমাজের অবহেলিত একটি বিশাল অংশকে বোঝা হিসেবে না রেখে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এতিমখানা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।পরিশেষে বলা যায়, সমাজের অসহায় ও পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সমাজে তাদের মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এতিমখানার মতো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও