ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
BARI এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
কৃষিতে 'বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট' (BRRI) এর অবদান ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মানচিত্রে চিহ্নিত দুই অঞ্চলে বহুল উৎপাদিত ফসলটি চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক নিয়ামক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইঙ্গিতপূর্ণ ফসলটি 'ক' ও 'খ' অঞ্চলে উৎপাদনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BARI এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Agricultural Research Institute (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)-এর অবদান অপরিসীম। ব্রি উন্নত জাতের ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করে থাকে। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ যেমন—খরা, লবণাক্ততা, বন্যা ও জলমগ্নতা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানচিত্রে চিহ্নিত দুটি প্রধান অঞ্চল হলো উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র/কানাডার প্রেইরি অঞ্চল) এবং পূর্ব/দক্ষিণ এশিয়া (চীন/ভারত অঞ্চল), যেখানে প্রধান উৎপাদিত ফসল হলো 'গম' (Wheat)।
গম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ নিম্নরূপ:
১. ভূ-প্রকৃতি: গম চাষের জন্য মৃদু ঢালু বা সমতল ভূমি সবচেয়ে উপযোগী, যাতে জমিতে সহজে জল নিষ্কাশন হতে পারে। অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা গমের জন্য ক্ষতিকর।
২. জলবায়ু (উত্তাপ ও বৃষ্টিপাত): গম মূলত নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের ফসল। বীজ বপনের সময় ১৬°–১৮° সেলসিয়াস এবং ফসল পাকার সময় ২০°–২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। বার্ষিক গড়ে ৫০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত গম চাষের জন্য আদর্শ।
৩. মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ, বেলে-দোআঁশ ও হালকা কাদা মাটি গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মাটিতে পর্যাপ্ত চুন ও নাইট্রোজেন উপাদান থাকলে গমের ফলন ভালো হয়।
৪. সূর্যালোক: গম পাকার সময় প্রচুর রোদ ও মেঘমুক্ত উজ্জ্বল আবহাওয়া থাকা আবশ্যক। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানচিত্রে 'ক' অঞ্চল হিসেবে উত্তর আমেরিকার প্রেইরি গম অঞ্চল (যুক্তরাষ্ট্র) এবং 'খ' অঞ্চল হিসেবে এশিয়ার গম উৎপাদনকারী অঞ্চলকে (বিশেষ করে চীন বা ভারত) নির্দেশ করা হয়েছে। নিম্নে এদের উৎপাদনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. উৎপাদন পদ্ধতি: উত্তর আমেরিকার 'ক' অঞ্চলে গম চাষ মূলত বাণিজ্যিকভাবে এবং অত্যন্ত আধুনিক, মূলধননির্ভর ও বৃহদায়তন যন্ত্রের (যেমন—ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার) সাহায্যে পরিচালিত হয় (বিস্তৃত কৃষি)। পক্ষান্তরে, এশিয়ার 'খ' অঞ্চলে জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে শ্রমঘন ও প্রগাঢ় কৃষি পদ্ধতিতে গম চাষ করা হয়।
২. জমির আয়তন ও উৎপাদনশীলতা: 'ক' অঞ্চলে কৃষিজমির খণ্ড বা ফার্মের আয়তন অত্যন্ত বিশাল এবং সেখানে মাথাপিছু উৎপাদন অনেক বেশি, তবে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন তুলনামূলক কম হতে পারে। অন্যদিকে, 'খ' অঞ্চলে জমির খণ্ডগুলো ছোট কিন্তু প্রচুর সার, সেচ ও নিবিড় পরিচর্যার কারণে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন যথেষ্ট বেশি।
৩. ব্যবহার ও রপ্তানি: 'ক' অঞ্চলের উৎপাদিত গমের একটি বিশাল অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয় (যেমন—যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ গম রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি)। বিপরীতে, 'খ' অঞ্চলের (যেমন চীন বা ভারত) উৎপাদিত গম প্রধানত দেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা ও খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
পরিশেষে, উভয় অঞ্চলই বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম উৎপাদনকারী অঞ্চল হলেও কৃষি কাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভোগের ধরণের দিক থেকে তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও