ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
সুমি ও তার ভাই উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রাম থেকে ঢাকায় গমন করায় তার পরিবারের খরচ বৃদ্ধি পায়। তাই প্রয়োজনের তাগিদে তার বাবা অধিক উপার্জনের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে গমন করেন।
- ক)(1)
স্থূল জন্মহার কী?
- খ)(2)
জনসংখ্যার ঘনত্ব কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লিখিত অভিগমনের ধরন ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
ইঙ্গিতকৃত দু'ধরনের অভিগমনের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার মধ্যবর্তী জনসংখ্যার বিপরীতে মোট যতজন জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate বা CBR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের বা অঞ্চলের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে (সাধারণত প্রতি বর্গকিলোমিটারে) যতজন লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা ÷ মোট ভূমির ক্ষেত্রফল।
এটি একটি দেশের ভূখণ্ডের তুলনায় জনসংখ্যার পরিমাপ নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে জানা যায় অঞ্চলটি জনবহুল, বিরল না মাঝারি বসতিপূর্ণ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লিখিত অভিগমনের ধরনটি হলো ‘অভ্যন্তরীণ অভিগমন’ (Internal Migration), যা গ্রাম থেকে শহরে ঘটেছে।
কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন করাকে অভ্যন্তরীণ অভিগমন বলে। এটি প্রধানত গ্রাম থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে শহরে কিংবা শহর থেকে গ্রামে ঘটে থাকে।
উদ্দীপকে সুমি ও তার ভাই উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে নিজ গ্রাম ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় গমন করেছে। যেহেতু এই অভিগমনটি বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে এক স্থান (গ্রাম) থেকে অন্য স্থানে (শহর) সংগঠিত হয়েছে, তাই এটি অভ্যন্তরীণ অভিগমনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। উন্নত শিক্ষার সুযোগ গ্রহণের জন্য তারা গ্রাম হতে শহরে স্থানান্তর হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দুই ধরনের অভিগমনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—প্রথমটি সুমি ও তার ভাইয়ের ‘অভ্যন্তরীণ অভিগমন’ এবং দ্বিতীয়টি তাদের বাবার ‘আন্তর্জাতিক অভিগমন’। নিচে এদের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক পরিধি: অভ্যন্তরীণ অভিগমন দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে (যেমন: গ্রাম থেকে ঢাকা) সীমাবদ্ধ থাকে। পক্ষান্তরে, আন্তর্জাতিক অভিগমনে জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে (যেমন: বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য) যেতে হয়।
২. উদ্দেশ্য ও চালিকাশক্তি: উদ্দীপকে প্রথমটি ঘটেছে প্রধানত সামাজিক ও শিক্ষামূলক কারণে (উচ্চশিক্ষা গ্রহণ)। অন্যদিকে দ্বিতীয়টি ঘটেছে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক প্রয়োজনে (অধিক উপার্জন ও পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটানো)।
৩. আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন: অভ্যন্তরীণ অভিগমনে পাসপোর্ট, ভিসা, কাজের অনুমতি বা কোনো আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা থাকে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিগমনের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, বহির্গমন ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কঠোর অভিবাসন নীতি মেনে চলতে হয়।
৪. অর্থনৈতিক প্রভাব: অভ্যন্তরীণ অভিগমনের ফলে দেশের অভ্যন্তরেই শ্রমশক্তি ও মেধার পুনর্বণ্টন ঘটে। অপরপক্ষে, আন্তর্জাতিক অভিগমনের ফলে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আসে, যা দেশের সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে।
সুতরাং, পরিধি, উদ্দেশ্য এবং প্রক্রিয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিগমনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও