ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক ক্লাসে জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেল পড়াতে গিয়ে এই তত্ত্বে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
- ক)(1)
জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেল প্রদান করেন কে?
- খ)(2)
জনমিতিক উপাদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ এই মডেলের কোন পর্যায়ে অবস্থান করে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশদ্বয়ের মডেলটির পর্যায়গত অবস্থানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলটি ১৯২৯ সালে মার্কিন জনমিতিবিদ ওয়ারেন থম্পসন (Warren Thompson) প্রদান করেন (পরবর্তীতে ফ্রাঙ্ক নোটেস্টাইন এটি আরও সম্প্রসারিত করেন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনমিতিক উপাদানসমূহ—যেমন জন্মহার, মৃত্যুহার এবং অভিগমন—একটি দেশের জনসংখ্যা কাঠামোর সামগ্রিক রূপরেখা নির্ধারণ করে।
এসব উপাদানের মাধ্যমে কোনো দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, বয়স-লিঙ্গ কাঠামো এবং নির্ভরশীলতার অনুপাত জানা যায়। এছাড়া খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির জন্য জনমিতিক উপাদানের পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের ‘তৃতীয় পর্যায়ে’ (বা বিলম্বিত রূপান্তরকাল/নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির পর্যায়) অবস্থান করে।
জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের তৃতীয় পর্যায়ে জন্মহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায় এবং মৃত্যুহারও কমে নিম্ন পর্যায়ে স্থিতিশীল হতে শুরু করে, যার ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরগতিতে নেমে আসে।
বাংলাদেশ বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনার প্রসার, শিক্ষার বিস্তার ও নারী ক্ষমতায়নের কারণে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য জনমিতিক রূপান্তর তত্ত্বের তৃতীয় পর্যায়ের সাথে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশ দুটি হলো বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলে এদের অবস্থানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্যায়গত অবস্থান: বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের ‘তৃতীয় পর্যায়ে’ (বিলম্বিত রূপান্তরকাল) অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে, উন্নত দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড মডেলটির ‘চতুর্থ পর্যায়ে’ (নিম্ন স্থিতিশীল পর্যায়) অবস্থান করছে।
২. জন্মহার ও মৃত্যুহারের রূপরেখা: তৃতীয় পর্যায়ে থাকায় বাংলাদেশে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং মৃত্যুহার নিম্ন স্তরে রয়েছে। অন্যদিকে, চতুর্থ পর্যায়ে থাকায় নিউজিল্যান্ডে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে এবং ভারসাম্য বজায় রেখেছে।
৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রকৃতি: বাংলাদেশে জন্মহার কমলেও তা প্রতিস্থাপন মাত্রার কাছাকাছি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ইতিবাচক ও ধীরগতির। অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডে জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান বা কাছাকাছি হওয়ায় জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য বা খুব সামান্য, যা স্থিতিশীল জনসংখ্যার রূপ নির্দেশ করে।
৪. আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবনযাত্রা: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনার কারণে রূপান্তর দ্রুততর হচ্ছে। বিপরীতে নিউজিল্যান্ড একটি উন্নত, শিল্পোন্নত ও উচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ, যেখানে আধুনিক জীবনযাপন, উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং পারিবারিক সচেতনতার কারণে অনেক আগেই চতুর্থ পর্যায় অর্জিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল পর্যায় থেকে উন্নত জনমিতিক কাঠামোর দিকে অগ্রসরমান, আর নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে চতুর্থ পর্যায়ের আধুনিক ও স্থিতিশীল জনমিতিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও