মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ঃ নিশা চলন্ত গাড়ির হর্ন শুনে লাফ দিয়ে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ালো।দৃশ্যকল্প-২ঃ
- ক)(1)
মেরুরজ্জুর প্রধান কাজ কী?
- খ)(2)
হরমোন প্রয়োজনীয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত নিশার রাস্তা থেকে লাফ দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘটনাটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রদর্শিত চিত্রের 'A' এবং 'B' বিষয়গুলোর বিবরণ দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেরুরজ্জুর প্রধান কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে স্নায়ুপ্রবাহ মস্তিষ্কে প্রেরণ করা, মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে দেওয়া এবং অনৈচ্ছিক বা প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action) নিয়ন্ত্রণ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হরমোন হলো অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক প্রকার জৈব-রাসায়নিক পদার্থ যা সরাসরি রক্তে মিশে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিপাক ক্রিয়া, প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা, রক্তের উপাদানসমূহের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য হরমোন অপরিহার্য। হরমোনের ঘাটতি বা আধিক্যে শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ নিশার চলন্ত গাড়ির হর্ন শুনে লাফ দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘটনাটি একটি 'প্রতিবর্ত ক্রিয়া' (Reflex Action)।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া হলো এমন একটি তাৎক্ষণিক, অনৈচ্ছিক এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া, যা মস্তিষ্কের সরাসরি ও সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দ্রুত মেরুরজ্জু (Spinal Cord) দ্বারা সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে চলন্ত গাড়ির আকস্মিক উচ্চ হর্নের শব্দ নিশার কানে (গ্রাহক অঙ্গ) পৌঁছায় এবং শ্রবণ স্নায়ুর মাধ্যমে একটি অতি দ্রুত সংবেদী বার্তা মেরুরজ্জুতে চলে যায়। সম্ভাব্য বিপদের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের বিচার-বিশ্লেষণের সময়ের অপেক্ষা না করে মেরুরজ্জু আজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে পায়ের পেশিতে দ্রুত লাফ দেওয়ার নির্দেশ পাঠায়। ফলে সচেতনভাবে চিন্তা করার আগেই নিশা লাফ দিয়ে রাস্তা থেকে সরে যায়। এটি মূলত জীবন রক্ষার জন্য জীবের একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রদর্শিত চিত্রে মানব মস্তিষ্ককে তিনটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়েছে। চিত্রে 'C' হলো পশ্চাৎ মস্তিষ্ক। সুতরাং, 'A' নির্দেশ করছে 'অগ্রমস্তিষ্ক' (Forebrain) এবং 'B' নির্দেশ করছে 'মধ্যমস্তিষ্ক' (Midbrain)। নিচে এদের বিবরণ দেওয়া হলো:
১. 'A' বা অগ্রমস্তিষ্ক (Forebrain):
অগ্রমস্তিষ্ক হলো মানব মস্তিষ্কের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে উন্নত অংশ। এর প্রধান অংশগুলো হলো:- গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum): এটি দুটি সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারে বিভক্ত। এর বাইরের আবরণকে সেরেব্রাল কর্টেক্স বলে। এটি চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, অনুভূতি, ভাষা, স্বেচ্ছামূলক পেশিসঞ্চালন ইত্যাদি জটিল মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- থ্যালামাস (Thalamus): এটি সংবেদী স্নায়ুর প্রধান রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে (ঘ্রাণ ছাড়া বাকি সব সংবেদী তথ্য থ্যালামাসের মাধ্যমে কর্টেক্সে যায়)।
- হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus): এটি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, শরীরের তাপমাত্রা এবং স্বতঃস্ফূর্ত স্নায়ুতন্ত্র ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
২. 'B' বা মধ্যমস্তিষ্ক (Midbrain):
অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সংযোগস্থলে অবস্থিত ক্ষুদ্র অংশটি হলো মধ্যমস্তিষ্ক। এর বিবরণ:- এটি অগ্র ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মধ্যে স্নায়ুসংকেত আদান-প্রদানে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
- এর প্রধান অংশগুলো হলো টেকটাম ও টেগমেনটাম।
- মধ্যমস্তিষ্ক মূলত দৃষ্টি ও শ্রবণের প্রতিবর্ত ক্রিয়া (যেমন: আকস্মিক আলো বা শব্দের দিকে চোখ ও মাথা ঘোরানো) এবং চোখের তারার সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি এটি দৈহিক নড়াচড়া ও পেশির টান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও