সমাজকর্ম ২য় পত্র • সরকারি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
'খ' একটি'সরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। এটি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। এ সংস্থা স্বাস্থ্য কর্মসূচি, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি কর্মসূচি, পল্লি মাতৃকেন্দ্র কর্মসূচি, ঋণদান কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
- ক)(1)
UCD এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
শহর সমাজসেবা কার্যক্রমের একটি কর্মসূচি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন সরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সংস্থার কর্মসূচিসমূহ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UCD এর পূর্ণরূপ হলো Urban Community Development (শহর সমাজসেবা / শহর সমষ্টি উন্নয়ন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শহর সমাজসেবা (UCD) কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এর আওতায় শহরের দরিদ্র, বস্তিবাসী ও বেকার যুবক-যুবতীদের সেলাই, ড্রাইভিং, মোবাইল মেরামত, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম 'পল্লি সমাজসেবা' (Rural Social Services বা RSS)-এর কথা বলা হয়েছে।
পল্লি সমাজসেবা হলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণের একটি অন্যতম সুপরিচিত কর্মসূচি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'খ' সংস্থাটি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এবং এটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, পল্লি মাতৃকেন্দ্র ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি ইত্যাদি পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশের সমাজসেবা অধিদপ্তর ১৯৭৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে পল্লি সমাজসেবা (RSS) কর্মসূচি চালু করে, যার আওতায় গ্রামীণ নারীদের জন্য 'পল্লি মাতৃকেন্দ্র', বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সুতরাং, উদ্দীপকের কার্যক্রমটি পল্লি সমাজসেবা কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পল্লি সমাজসেবা (RSS) কার্যক্রমের কর্মসূচিসমূহ বাংলাদেশের গ্রামীণ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিচে এর কর্মসূচিগুলোর মূল্যায়ন করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও সুদমুক্ত ঋণদান: পল্লি সমাজসেবার অন্যতম সফল দিক হলো সুদমুক্ত ঘূর্ণায়মান ক্ষুদ্রঋণ প্রদান। প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন ও দুস্থ ব্যক্তিরা এ ঋণ গ্রহণ করে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
২. পল্লি মাতৃকেন্দ্র ও নারীর ক্ষমতায়ন: পল্লি মাতৃকেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যরক্ষা, পুষ্টি ও মা-শিশু কল্যাণ বিষয়ে সচেতন করা হয়। হস্তশিল্প ও বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে।
৩. বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ: আধুনিক কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প এবং কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রামীণ বেকার যুবকদের উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করেছে।
৪. স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: এ কর্মসূচি গ্রামীণ জনগণকে সুপেয় পানি ব্যবহার, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সহায়তা করেছে।
৫. সীমাবদ্ধতা: তবে ঋণের অপ্রতুলতা, মনিটরিংয়ের অভাব ও কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার ঘাটতি কখনো কখনো কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করে।
সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, পল্লি সমাজসেবা কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামগ্রিক সমাজ উন্নয়নে এক অনন্য ও টেকসই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যকর অবদান রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও