সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্ছিত পরিবর্তনকে কী বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিশ্বায়ন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের কোন প্রত্যয়টি প্রযোজ্য? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সমাজজীবনে উক্ত বিষয়টির কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্ছিত পরিবর্তনকে সামাজিক উন্নয়ন বা প্রগতি (Progress) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল পরস্পর নির্ভরশীল ও সংযুক্ত হয়ে একক বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) পরিণত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ, অবাধ বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ফলে দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাপী একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে ওঠাকেই বিশ্বায়ন বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের 'অপরাধ' (Crime) বা 'সামাজিক বিচ্যুতি' প্রত্যয়টি প্রযোজ্য।

    সমাজবিজ্ঞানে যেসব কর্মকাণ্ড প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধ, প্রথা ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী এবং যা সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে সমাজ কর্তৃক শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য হয়, তাকে অপরাধ বা বিচ্যুতিমূলক আচরণ বলা হয়। সমাজভেদে অপরাধের ধরন ভিন্ন হতে পারে।

    উদ্দীপকের ছকে ১ থেকে ৮ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড উল্লেখ রয়েছে; যেমন—আয়কর ফাঁকি, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, জুয়াখেলা ও পতিতাবৃত্তি, সম্পত্তি আত্মসাৎ, চুরি-ডাকাতি, হত্যা করা, মাফিয়া চক্র এবং বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি। এগুলোর প্রতিটিই রাষ্ট্রীয় আইন কিংবা সামাজিক অনুশাসন ও রীতিনীতি বিরোধী কর্মকাণ্ড। প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও দেওয়ানি আইনের দৃষ্টিতে এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আবার কিছু আচরণ কিশোর অপরাধ ও সামাজিক বিচ্যুতির শামিল। সুতরাং, এই সকল কর্মকাণ্ড সমাজজীবনের 'অপরাধ' প্রত্যয়টিকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজজীবনে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির (অপরাধ বা বিচ্যুতি)-র পেছনে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকট: অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য ও বেকারত্ব। মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে অনেকে চুরি, ডাকাতি ও সম্পত্তি আত্মসাতের মতো অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে।

    ২. নৈতিক শিক্ষার অভাব ও মূল্যবোধের অবক্ষয়: পরিবার ও সমাজ থেকে সঠিক নৈতিক শিক্ষা না পেলে এবং সমাজে অন্যায় কাজের বিচার না হলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। ফলে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা দুর্নীতির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পায়।

    ৩. পারিবারিক বিশৃঙ্খলা: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং পিতামাতার যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাবে সন্তানরা সঠিক সামাজিকীকরণ থেকে বঞ্চিত হয়, যা তাদের বাবার পকেট থেকে টাকা চুরিসহ কিশোর অপরাধে ধাবিত করে।

    ৪. লোভ ও দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা: অধিক মুনাফা ও অর্থলিপ্সার কারণে সমাজে আয়কর ফাঁকি, মাফিয়া চক্র তৈরি এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সৃষ্টি হয়।

    ৫. সামাজিক অসাম্য ও হতাশা: সমাজে সুযোগের অসমতা ও বৈষম্যের ফলে সৃষ্ট হতাশা ব্যক্তিদের জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি বা মাদকাসক্তির মতো অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।

    ৬. আইনের দুর্বল প্রয়োগ: সমাজে অপরাধীদের যথাযথ ও দ্রুত বিচার না হলে অপরাধ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

    পরিশেষে বলা যায়, অপরাধ কেবল কোনো একক কারণে ঘটে না; বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার যৌথ প্রতিফলনে সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন