সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

তানিয়া একটি ইটের ভাটাতে কাজ করে। সেখানে পুরুষ ও মহিলা মিলে প্রায় ৮০ জন শ্রমিক কাজ করে। তার স্বামী মতিন একই ইট ভাটাতে কাজ করে। তানিয়ার মনে খুব দুঃখ, কারণ সারাদিন একই পরিশ্রম করলেও সে তার স্বামী মতিনের অর্ধেক পারিশ্রমিক পায়। কাজ থেকে একই সঙ্গে ঘরে ফিরে তানিয়াকে একা হাতে ঘরের সব কাজ করতে হয়। অথচ, মতিন শুয়ে আরাম করে। সে ঘরের কোনো কাজে তানিয়াকে সাহায্য করে না। বরং কারণে-অকারণে তানিয়াকে বকাঝকা করে।

  1. ক)

    “সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান” – সংজ্ঞাটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক নিরাপত্তার ধারণাটি বুঝিয়ে বলো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সামাজিক বৈষম্যের চিত্রটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের উক্ত বৈষম্য আমাদের সামাজিক উন্নতির অন্তরায়" - তুমি কি এই বক্তব্যের সাথে একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান” – সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের (Émile Durkheim)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক নিরাপত্তা হলো রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত এমন এক ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা, যা অসুস্থতা, বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, মাতৃত্বকালীন সমস্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক ও সামাজিক দুর্যোগে নাগরিকদের জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি মূলত সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আকস্মিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য সামাজিক বীমা, সামাজিক সাহায্য এবং জনকল্যাণমূলক সেবার সমন্বয়ে গঠিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বা জেন্ডার বৈষম্যের (Gender Discrimination) চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

    সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে যে কৃত্রিম ও সামাজিক অসমতা সৃষ্টি করা হয়, তাকে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বলে। কর্মক্ষেত্র এবং পরিবার উভয় স্থানেই নারীরা প্রায়ই এই বৈষম্যের শিকার হন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তানিয়া ও তার স্বামী মতিন একই ইটভাটায় সারাদিন একই রকম শ্রম দেয়। কিন্তু দিনের শেষে তানিয়া মতিনের অর্ধেক পারিশ্রমিক পায়। শুধু তা-ই নয়, কাজ শেষে বাড়ি ফিরে তানিয়াকে একাই সংসারের সব কাজ করতে হয়, যেখানে তার স্বামী কোনো সাহায্য না করে আরাম করে এবং তানিয়াকে নির্যাতন করে। সমান শ্রম দেওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে কম মজুরি পাওয়া এবং গৃহস্থালি কাজের সম্পূর্ণ দায়ভার নারীর ওপর চাপানো জেন্ডার বৈষম্যের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের উক্ত বৈষম্য আমাদের সামাজিক উন্নতির অন্তরায়" - আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।

    যেকোনো সমাজের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমান অংশীদারিত্ব ও স্বীকৃতি প্রয়োজন। কিন্তু উদ্দীপকে প্রদর্শিত জেন্ডার বৈষম্য সমাজের এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে।

    প্রথমত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের সমান কাজের জন্য কম মজুরি দিলে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নারীরা আর্থিকভাবে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল থাকে এবং দারিদ্র্য হ্রাস ব্যাহত হয়।

    দ্বিতীয়ত, গৃহস্থালি কাজের অনুৎপাদনশীল মূল্যায়ন এবং দ্বিমুখী কাজের বোঝা নারীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। তানিয়ার মতো লাখ লাখ নারী ঘরের এবং বাইরের উভয় কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যা তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।

    তৃতীয়ত, পারিবারিক নির্যাতন ও অবহেলা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে এবং সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবকে চিরস্থায়ী করে তোলে। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে, তাদের শ্রম ও মেধার অবমূল্যায়ন করে কোনো দেশ বা সমাজ সামগ্রিকভাবে উন্নত হতে পারে না।

    অতএব, লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য দূর করা এবং নারীর শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন