গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়?

    (1)
  2. খ)

    রোগ নিরাময়ে পথ্য পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত রোগের লক্ষণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রোগীর জন্য বর্জনীয় খাদ্য উল্লেখপূর্বক একটি পথ্য পরিকল্পনা তৈরি করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইনসুলিন (Insulin) হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোগ নিরাময়ে পথ্য পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক পথ্য রোগের বিস্তার রোধ করে এবং শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে।

    বিভিন্ন রোগে শরীরের পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পরিবর্তিত হয় এবং কিছু বিশেষ খাদ্য উপাদান রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি করে। পথ্য পরিকল্পনার মাধ্যমে রোগীর পুষ্টিচাহিদা বজায় রেখে রোগের ধরন অনুযায়ী ক্ষতিকর খাদ্য বাদ দেওয়া হয় এবং রোগপ্রতিরোধক ও নিরাময়মূলক খাদ্য নির্বাচন করা হয়। এর ফলে ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং জটিলতা এড়িয়ে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে করোনারি ধমনীতে প্লাক জমে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা করোনারি হৃদরোগ বা অ্যানজাইনা/হৃদরোগ নির্দেশ করে।

    এ রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. বুকে তীব্র ব্যথা ও চাপ: বুকের ঠিক মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ, অস্বস্তি বা ভারী কিছু চেপে বসে থাকার মতো তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এ ব্যথাকে অ্যানজাইনা পেক্টোরিস বলা হয়।
    ২. ব্যথার বিস্তার: বুকের এই ব্যথা প্রায়শই বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
    ৩. শ্বাসকষ্ট: সামান্য পরিশ্রমে বা বিশ্রামরত অবস্থায়ও দম আটকে আসার মতো শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
    ৪. অতিরিক্ত ঘাম ও মাথা ঘোরা: রোগী শীতল ঘামে ভিজে যায় এবং শরীরে চরম দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার অনুভূতি হয়।
    ৫. বুক ধড়ফড় করা ও ক্লান্তি: হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে এবং চরম ক্লান্তি ও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রোগী করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগীর চিকিৎসার একটি অপরিহার্য অংশ হলো উপযুক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও পথ্য পরিকল্পনা।

    বর্জনীয় খাদ্যসমূহ:
    ১. অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাদ্য: যেমন—গরু ও খাসির মাংস, মগজ, কলিজা, ডিমের কুসুম, চিংড়ি।
    ২. ট্রান্স ফ্যাট ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: ঘি, ডালডা, মাখন, পনির, ভাজাভুজি, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার।
    ৩. অতিরিক্ত লবণ: কাঁচা লবণ, লবণাক্ত চিপস, চানাচুর, আচার ও টিনজাত খাবার।
    ৪. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্য: কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি ইত্যাদি।

    হৃদরোগীর জন্য একটি আদর্শ পথ্য পরিকল্পনা:

    ১. সকালের নাস্তা (সকাল ৮:০০):

    • লাল আটার রুটি: ২টি
    • সবজি ভাজি (তেল ছাড়া বা নামমাত্র তেলে রান্না): ১ বাটি
    • ডিমের সাদা অংশ: ১টি
    • লাল চা (চিনি ছাড়া) বা গ্রিন টি: ১ কাপ

    ২. মধ্য-সকাল (সকাল ১১:০০):

    • একটি মিষ্টিহীন ফল (যেমন: আপেল/পেয়ারা/কমলা): ১টি

    ৩. দুপুরের খাবার (দুপুর ১:৩০ - ২:০০):

    • লাল চালের ভাত: ১ থেকে ১.৫ কাপ
    • মাছ (ছোট বা চর্বিহীন দেশি মাছের পাতলা ঝোল): ১ টুকরা
    • বিভিন্ন রঙের শাকসবজি: ১ বাটি
    • পাতলা ডাল: ১ বাটি
    • শসা ও টমেটোর সালাদ: ১ প্লেট

    ৪. বিকালের নাস্তা (বিকাল ৫:৩০):

    • ওটমিল বা মুড়ি: আধা কাপ
    • কাঠবাদাম/আখরোট: ৪-৫টি (লবণ ছাড়া)
    • গ্রিন টি: ১ কাপ

    ৫. রাতের খাবার (রাত ৮:৩০ - ৯:০০):

    • লাল আটার রুটি: ২টি (অথবা অল্প ভাত)
    • সবজি/লাউ/পেঁপের তরকারি: ১ বাটি
    • চর্বিহীন মুরগির মাংস বা ডাল: ১ টুকরা/বাটি
    • ঘুমানোর আগে: টকদই বা ননিহীন দুধ (ইচ্ছা হলে): আধা গ্লাস।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন