ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি রাজ্যকে প্রায় ২০০ বছর শাসন করার পর জনৈক শাসকগোষ্ঠী এক আইনের মাধ্যমে দুই ভাগে ভাগ করতে বাধ্য হয়। ভাগ দুটি হয় মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে। দুটি রাষ্ট্র আলাদা হয়ে গেলেও মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়ন চলতে থাকে।
- ক)(1)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কত সালে শুরু হয়েছিল?
- খ)(2)
সাইমন কমিশন কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে তা বাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত রাষ্ট্র দুটির দ্বন্দ্বের ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাইমন কমিশন হলো ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গঠিত একটি সাত সদস্যের সংবিধিবদ্ধ কমিশন (Statutory Commission), যার প্রধান ছিলেন স্যার জন সাইমন। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং ভারতে ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের সুপারিশের উদ্দেশ্যে এই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের সকল সদস্য ইংরেজ হওয়ায় এবং কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় ভারতীয় দলসমূহ এই কমিশন বর্জন করে এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের 'ভারত বিভাজন' বা 'ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির' ঘটনার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশরা প্রায় দুইশত বছর (১৭৫৭-১৯৪৭) ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে। ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করে—একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ 'ভারত' এবং অন্যটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ 'পাকিস্তান'।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রায় ২০০ বছর শাসনের পর এক আইনের মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়ার বিষয়টি ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের ইতিহাসকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত রাষ্ট্র দুটি হলো ভারত ও পাকিস্তান। এদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক হয়েছিল, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উদ্বাস্তু সংকট: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরপরই ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। লাখ লাখ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হিজরত করতে বাধ্য হয় এবং বহু প্রাণহানি ঘটে।
২. কাশ্মীর সংকট ও যুদ্ধ: দেশভাগের পর কাশ্মীর রাজ্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে ১৯৪৮, ১৯৬৫ ও ১৯৯৯ সালে উভয় দেশ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
৩. প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি: পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার ফলে উভয় রাষ্ট্রই সামরিক খাতে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হয়, যার ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনগণের মৌলিক অধিকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৪. পারমাণবিক প্রতিযোগিতা: বৈরিতা থেকে উভয় দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী হুমকি সৃষ্টি করেছে।পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় ভিত্তিতে দেশভাগের ফলে সৃষ্ট ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতা ও দ্বন্দ্ব উভয় দেশের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত উত্তেজনার কারণ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও