কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
আমাদের দেশে ফসল উৎপাদনে ভালো মানের বীজের যেমন ঘাটতি রয়েছে তেমনি রয়েছে সময়মতো বীজ না পাওয়াসহ বীজের উচ্চমূল্য। এসব দিক বিবেচনায় রেখে আফজাল সাহেব পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। বীজ উৎপাদনে তিনি জমি নির্বাচন ও পৃথকীকরণ দূরত্বসহ রোগিং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
- ক)(1)
রেশম চাষ কী?
- খ)(2)
অণুজীব সার পরিবেশ বান্ধব-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আফজাল সাহেবের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া কার্যক্রমসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আফজাল সাহেবের গৃহীত সিদ্ধান্ত উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেশম পোকার ডিম থেকে গুটি বা কোকুন তৈরি এবং তা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম সুতা উৎপাদনের সার্বিক প্রক্রিয়াকে রেশম চাষ (Sericulture) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অণুজীব সার হলো প্রাকৃতিকভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিকারী নির্দিষ্ট কিছু অণুজীবের (যেমন- রাইজোবিয়াম, অ্যাজোটোব্যাকটর) সুষম কালচার। এটি রাসায়নিক সারের মতো মাটিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ সৃষ্টি করে না এবং ভূগর্ভস্থ বা ভূপৃষ্ঠের পানিকে দূষিত করে না। এছাড়া এটি প্রাকৃতিকভাবে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে এবং ফসফেট দ্রবীভূত করে মাটির গঠন ও উর্বরতা অক্ষুণ্ণ রাখে। তাই অণুজীব সার সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আফজাল সাহেব পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে জমি নির্বাচন, পৃথকীকরণ দূরত্ব এবং রোগিং-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বীজ উৎপাদনের বিশুদ্ধতা রক্ষায় এ কার্যক্রমগুলোর গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. জমি নির্বাচন: পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য সুনিষ্কাশিত, উর্বর বেলে-দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি নির্বাচন করা প্রয়োজন, যেখানে পূর্বে অন্য জাতের পেঁয়াজ চাষ করা হয়নি। এতে মাটির গুণগত মান ভালো থাকে এবং জাতের সংমিশ্রণ রোধ হয়।
২. পৃথকীকরণ দূরত্ব (Isolation distance): পেঁয়াজ একটি পরপরাগায়িত ফসল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরাগায়ন রোধ করে জাতের কৌলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য মূল ফসলের জমি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব (ভিত্তি বীজের জন্য ন্যূনতম ১০০০ মিটার এবং প্রত্যায়িত বীজের জন্য ৪০০-৮০০ মিটার) বজায় রাখতে হয়।
৩. রোগিং (Roguing): বীজ ক্ষেত থেকে অবাঞ্ছিত, ভিন্ন জাতের, রোগাক্রান্ত ও দুর্বল পেঁয়াজ গাছ ফুল ফোটার আগেই মূলসহ উপড়ে ফেলাকে রোগিং বলে। বীজ ফসলের বিশুদ্ধতা ও মান নিশ্চিত করতে রোগিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে আফজাল সাহেবের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং দেশের কৃষির উন্নয়নে অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আমাদের দেশে ভালো মানের বীজের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। কৃষক সঠিক সময়ে বীজ পায় না এবং চড়া মূল্যে নিচু মানের বীজ কিনতে বাধ্য হয়, যা ফলন বিপর্যয়ের কারণ ঘটায়। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বীজের সংকট দেখা দেয় এবং বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আফজাল সাহেব এই সংকট বিবেচনায় নিয়ে উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
তিনি বীজ উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক নীতিসমূহ (যেমন- জমি নির্বাচন, পৃথকীকরণ দূরত্ব ও রোগিং) সঠিকভাবে অনুসরণ করায় উৎপাদিত বীজ উচ্চমানের, বিশুদ্ধ ও রোগমুক্ত হবে। এর ফলে:
১. স্থানীয় কৃষকরা সময়মতো ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত ও বিশুদ্ধ বীজ পাবেন।
২. পেঁয়াজের ফলন বাড়বে এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা পেঁয়াজের আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করবে।
৩. আফজাল সাহেব নিজে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হবেন এবং বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।অতএব, বীজের ঘাটতি মেটানো ও কৃষি অর্থনীতির বিকাশে আফজাল সাহেবের গৃহীত সিদ্ধান্তটি সর্বতোভাবে যথার্থ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও