পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • সিলেট সরকারি কলেজ • সিলেট সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব মঈনুদ্দীন 'ক' রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক। তিনি দেশের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তার ওপর আরোপিত করও নিয়মিত প্রদান করেন। তিনি তার এলাকার অন্যদেরও তার দায়িত্ব পালনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।
- ক)(1)
জাতিসংঘ সনদে কতটি মানবাধিকারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মঈনুদ্দীনের সুযোগ্য প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম কোন ধরনের কর্তব্য নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
রাষ্ট্রের অন্য নাগরিকরাও যদি উদ্দীপকের জনাব মঈনুদ্দীনের মতো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কীরূপ প্রভাব পড়বে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে (UDHR) মোট ৩০টি মানবাধিকারের ধারা বা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মূল পার্থক্য এদের স্বীকৃতি ও সাংবিধানিক অবস্থানের মধ্যে নিহিত।
মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার কারণে বিশ্বজনীনভাবে প্রাপ্য সহজাত অধিকার, যা জাতিসংঘের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র দ্বারা স্বীকৃত। অন্যদিকে, মৌলিক অধিকার হলো মানবাধিকারেরই অংশ, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য ও সুরক্ষিত হয়। সংবিধানে স্বীকৃত না হলে মানবাধিকার আইনি সুরক্ষা পায় না, কিন্তু মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে নাগরিক আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব মঈনুদ্দীনের সুযোগ্য প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম নাগরিকের 'রাজনৈতিক কর্তব্য' নির্দেশ করে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী নির্বাচন করা নাগরিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। নির্বাচনে অংশ নিয়ে সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন না করলে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মঈনুদ্দীন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই সচেতনতা ও রাজনৈতিক সচেতন আচরণটি সরাসরি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রের অন্য নাগরিকরাও যদি জনাব মঈনুদ্দীনের মতো দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করে, তবে রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। জনাব মঈনুদ্দীনের কর্মকাণ্ডে সুশাসনের সহায়ক উপাদানগুলো সুস্পষ্ট। প্রথমত, তিনি নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ভূমিকা রাখেন; ফলে রাষ্ট্রে যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় যা সুশাসনের পূর্বশর্ত। দ্বিতীয়ত, তিনি নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, যার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় রাজস্ব সংকট দূর হয়। তৃতীয়ত, তিনি অন্যদের দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেন।
যদি দেশের সব নাগরিক একইভাবে নিয়মিত কর প্রদান করে, সৎ প্রার্থী নির্বাচিত করে এবং নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তবে দুর্নীতি হ্রাস পাবে, আইনের শাসন কায়েম হবে এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। এর ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, সকল নাগরিকের এমন দায়িত্বশীল আচরণ একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম ও স্থায়ী করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও