পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সুশাসন • সিলেট সরকারি কলেজ • সিলেট সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রহমান একজন প্রবীণ সংবাদকর্মী। তিনি একদিন একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন। প্রবন্ধটিতে দেখা যায়, 'ক' নামক রাষ্ট্রের রাজধানীতে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও দেশটিতে আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যথাযথ শিক্ষার অভাব ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে, 'খ' নামক রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন বিদ্যমান।
- ক)(1)
সুশাসন কী?
- খ)(2)
"সুশাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত"- যুক্তি দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে কোন ধরনের শাসনের অভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্র দুটির শাসনব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন হলো আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা, যা সুশাসন ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে "সুশাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত"।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যদি আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা না থাকে, তবে তা কেবল নামমাত্র গণতন্ত্র বা ব্যক্তিস্বার্থের শাসনে পরিণত হয়। সুশাসন নিশ্চিত হলে প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়, দুর্নীতি দূর হয় এবং নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার চর্চা করতে পারে। ফলে গণতন্ত্র ফলপ্রসূ ও অর্থবহ হতে সুশাসন অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে মূলত ‘সুশাসন’-এর অভাব রয়েছে।
সুশাসনের মৌলিক স্তম্ভগুলো হলো আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মেধার মূল্যায়ন এবং নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান। কেবল বাহ্যিক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে কোনো রাষ্ট্র আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না, যদি সেখানে সুশাসনের ঘাটতি থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' নামক রাষ্ট্রের রাজধানীতে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও দেশটিতে আইনের শাসনের চরম অনুপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব এবং ব্যাপক স্বজনপ্রীতি বিদ্যমান। স্বজনপ্রীতি ও অস্থিতিশীলতা মূলত কুশাসনের লক্ষণ, যা সুশাসনের বিপরীত অবস্থাকে নির্দেশ করে। তাই স্পষ্টতই 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের সুস্পষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্র দুটির শাসনব্যবস্থার প্রকৃতি পরস্পর বিপরীতধর্মী— যার একটি কুশাসন এবং অন্যটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
'ক' রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বাহ্যিক চাকচিক্যসর্বস্ব হলেও তা মূলত কুশাসনের শিকার। সেখানে কেবল রাজধানীতে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু সামগ্রিক শাসনপ্রক্রিয়ায় আইনের শাসনের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। আইনের শাসন না থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, শিক্ষার অভাব এবং স্বজনপ্রীতি রাষ্ট্রের সুষম বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সাধারণ জনগণের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অন্যদিকে, 'খ' রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন বিরাজমান। আইনের শাসন বিদ্যমান থাকার অর্থ হলো সেখানে আইনের চোখে সবাই সমান, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত। এটি সুশাসনের একটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে 'খ' রাষ্ট্রের নাগরিকরা সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার ভোগ করতে পারছে, যা সামগ্রিক জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক।
সুতরাং তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত, অস্থিতিশীল ও কুশাসন দ্বারা আক্রান্ত; বিপরীতে 'খ' রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক শাসনব্যবস্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও