‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • সিলেট সরকারি কলেজ • সিলেট সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রের জনগণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি প্রদান ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ফলে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও জীবনে পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে।

  1. ক)

    'যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'- কে বলেছেন।

    (1)
  2. খ)

    "সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন"- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    'ক' রাষ্ট্রের জনগণ কোন ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"- এ বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন দার্শনিক জন লক (John Locke)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন, কারণ সমাজে যদি সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার না থাকে, তবে স্বাধীনতার সুফল মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী শ্রেণির হাতে কুক্ষিগত হয়।

    সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার কোনো বাস্তব মূল্য থাকে না। অর্থনৈতিক বা সামাজিক সাম্য ছাড়া দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ নিজেদের স্বাধীনতা স্বাধীনভাবে ভোগ করতে পারে না। যেমন, অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে একজন দরিদ্র মানুষের বাকস্বাধীনতা বা ভোটাধিকার কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না; ধনীদের প্রভাবের কাছে স্বাধীনতা জিম্মি হয়ে পড়ে। তাই স্বাধীনতাকে সবার জন্য অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করতে সাম্য অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ 'অর্থনৈতিক স্বাধীনতা' ভোগ করেছেন।

    অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি এবং জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়। যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান লাভ, ন্যায্য পারিশ্রমিক বা মজুরি প্রাপ্তি, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক শোষণমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকা এ স্বাধীনতার মূল দিক।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও বেকারত্ব দূরীকরণের সুবিধা লাভ করেন। এসব সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার ফলেই মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও জীবনের পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। সুতরাং, এ অধিকার ও সুযোগগুলো নিশ্চিতভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    রাজনৈতিক স্বাধীনতা হলো রাষ্ট্রে নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, সরকারের সমালোচনা করা প্রভৃতি নাগরিক অধিকার ভোগের সুযোগ। তবে একজন ব্যক্তি যদি মৌলিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা না পায়, ক্ষুধার্ত ও বেকার থাকে, তবে তার কাছে রাজনৈতিক অধিকারগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

    অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার সদ্ব্যবহার করতে পারে না। যে ব্যক্তি জীবিকার সংকটে থাকে বা ঋণগ্রস্ত থাকে, সে সহজেই অর্থ বা প্রলোভনের কাছে নিজের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার বিকিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে নাগরিকদের কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের জীবনধারণ নিরাপদ হয়েছে এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন সুরক্ষিত ও শোষণমুক্ত নাগরিকরাই স্বাধীন ও নির্ভীক চিত্তে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

    অতএব, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও নিরাপত্তাই রাজনৈতিক অধিকারকে বাস্তবে ফলপ্রসূ করে তোলে। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ ও কার্যকর করে তুলেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন