‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে অধ্যাপক নিশাত বলেন, আইনসভা আইন প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়ন করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অন্য একটি বিভাগ। সরকারের এই বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকার বলতে জনগণ সাধারণত এই বিভাগকেই বুঝে থাকে।

  1. ক)

    'গণতন্ত্র' নিয়ে আব্রাহাম লিংকনের সংজ্ঞাটি লেখ।

    (1)
  2. খ)

    এককেন্দ্রিক সরকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    অধ্যাপক নিশাতের বক্তব্যে সরকারের যে বিভাগের প্রতিফলন ঘটেছে তার কার্যাবলি আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সরকারের এই বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন বেড়েই চলেছে'- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের মতে, "গণতন্ত্র হলো জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার" (Democracy is a government of the people, by the people, for the people)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সমুদয় শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকেই সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে। এতে কোনো আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন সাংবিধানিক অস্তিত্ব থাকে না; যেমন—বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধ্যাপক নিশাতের বক্তব্যে সরকারের 'শাসন বিভাগ' বা 'নির্বাহী বিভাগ'-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

    শাসন বিভাগের প্রধান কার্যাবলি নিম্নরূপ:
    ১. আইন বাস্তবায়ন ও প্রশাসন পরিচালনা: আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন কার্যকর করা এবং রাষ্ট্রের দৈনন্দিন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা শাসন বিভাগের প্রধান কাজ।
    ২. বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা: অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, চুক্তি সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
    ৩. প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজ: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহিরাক্রমণ প্রতিরোধ এবং সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনা করা।
    ৪. নীতি নির্ধারণ ও আর্থিক দায়িত্ব: বাজেট প্রণয়ন, কর নির্ধারণ ও বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্রীয় নীতিসমূহ প্রণয়ন ও তদারকি করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সরকারের এই বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন বেড়েই চলেছে' উক্তিটি শাসন বিভাগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।

    আধুনিক যুগে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা: আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ কেবল শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী নয়, বরং জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা শাসন বিভাগের আওতাধীন।
    ২. অর্পিত আইন প্রণয়ন ক্ষমতা: আইনসভার সময়ের অভাব ও জটিলতার কারণে অনেক খুঁটিনাটি বিধিবিধান ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা শাসন বিভাগের ওপর অর্পণ করা হয়।
    ৩. সংকট মোকাবিলা ও জরুরি অবস্থা: মহামারি, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সংকটে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের একমাত্র কর্তৃত্ব শাসন বিভাগের থাকে।
    ৪. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিস্তার: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার পুরো দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে।

    সুতরাং, আধুনিক রাষ্ট্রের জটিল কার্যাবলি ও দায়িত্বের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে আইনসভা বা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় শাসন বিভাগের ক্ষমতা ও গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন