ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের অভিনব কিছু কৌশলের মধ্যে একটি ছিল ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার লাল করা। এতে সরকার আরও তটস্থ হয়ে নৃশংস হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে। এক যাত্রাবাড়িতেই ছাত্র-জনতার অসংখ্য লাশ পড়ে। পুলিশবাহিনী খুঁজে খুঁজে এদের হত্যা করে। সরকারের এই নৃশংসতা শুধুই নিজের দম্ভ ও ক্ষমতা প্রদর্শন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসে।
- ক)(1)
'আস্-সাফফাহ' শব্দের অর্থ কী?,
- খ)(2)
'আহলে বায়াত' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'প্রোফাইল পিকচার লাল' করার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন কাজটি আস্-সাফফার নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে উমাইয়া যুবকরা করেছিল? ব্যাখ্যাসহ লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নৃশংসতার আলোকে আস্-সাফফার কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আস্-সাফফাহ' শব্দের অর্থ হলো রক্তপাতকারী, রক্তপিপাসু বা রক্তসিঞ্চনকারী (The Blood Shedder)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আহলে বায়াত' একটি আরবি শব্দমালা, যার আক্ষরিক অর্থ 'গৃহবাসী' বা 'পরিবারের সদস্যবর্গ'। তবে ইসলামি পরিভাষা ও ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র বংশধর ও পরিবার-পরিজনকে 'আহলে বায়াত' বলা হয়। সাধারণত এর অন্তর্ভুক্ত হলেন মহানবী (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.), জামাতা হযরত আলী (রা.) এবং তাঁদের সন্তান ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হুসাইন (রা.)-সহ তাঁদের বংশধরগণ। উমাইয়াদের বিরুদ্ধে হাশেমীয় ও আব্বাসীয়দের আন্দোলনে 'আহলে বায়াত'-এর অধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়টি অন্যতম প্রধান স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'প্রোফাইল পিকচার লাল' করার অভিনব প্রতিবাদের সাথে সাদৃশ্য রেখে প্রথম আব্বাসীয় খলিফা আবুল আব্বাস আস্-সাফফার নিষ্ঠুর দমননীতির বিরুদ্ধে উমাইয়া যুবকরা 'সাদা পোশাক' পরিধান করে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল।
আব্বাসীয়দের প্রতীক ছিল কালো রঙ। আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর খলিফা আবুল আব্বাস আস্-সাফফাহ উমাইয়াদের ওপর চরম গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু করেন। এর বিরুদ্ধে সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে উমাইয়া যুবকরা আব্বাসীয়দের কালো পতাকার বিপরীতে উমাইয়াদের সাদা পোশাক ও সাদা পতাকা ধারণ করে সংঘবদ্ধ হয়। উদ্দীপকে যেমন স্বৈরশাসনের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ আন্দোলনকারীরা ফেসবুকে লাল রঙের প্রোফাইল দিয়ে ঐক্য ও প্রতিরোধের জানান দেয়, ঠিক তেমনি উমাইয়া সমর্থক ও যুবকরা আস্-সাফফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের চিহ্ন হিসেবে উমাইয়া প্রতীক সাদা পোশাক পরিধান করে ময়দানে নেমেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও নির্বিচার দমননীতির সাথে আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আবুল আব্বাস আস্-সাফফার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার নিষ্ঠুর পদক্ষেপের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
৭৫০ খ্রিস্টাব্দে যাবের যুদ্ধে উমাইয়াদের পরাজিত করে ক্ষমতায় বসে আবুল আব্বাস নিজের খিলাফত নিষ্কণ্টক করার জন্য উমাইয়াদের সমূলে বিনাশের পথ বেছে নেন। তিনি উমাইয়া বংশের জীবিত সদস্যদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করেন। বিশেষ করে কুফার রাজপ্রাসাদে এবং আবু ফুতরুস নদীর তীরে ক্ষমা প্রদর্শনের ভান করে প্রায় ৮০ জন উমাইয়া রাজপুত্র ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এমনকি মৃত উমাইয়া খলিফাদের কবর খুঁড়ে তাদের কঙ্কাল বের করে পুড়িয়ে ছাই বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং বিরোধীদের মনে চরম ভীতি সঞ্চার করতেই তিনি এমন রক্তপাত ঘটান, যার জন্য তাঁকে 'আস্-সাফফাহ' (রক্তপাতকারী) উপাধি দেওয়া হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সরকার নিজের দম্ভ ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে হত্যা করে ও খুঁজে খুঁজে নিধনযজ্ঞ চালায়। আস্-সাফফার কর্মকাণ্ডও অনুরূপ চরম হিংস্রতা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিপ্রায়ে পরিচালিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও