ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
তৈমুর লং একজন ভাগ্যাহত ভবঘুরে থেকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে আত্মবিকাশ করেন। তিনি মধ্য এশিয়া-পারস্য থেকে কৃষ্ণসাগরের তীর পর্যন্ত জয় করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তিনি সমকালীন বিশ্বের নয়টি রাজ্যের ২৭ জন নৃপতিকে পরাজিত করেছিলেন। তিনি শুধু একজন বিজেতাই ছিলেন না, একজন সাহিত্য ও শিল্পকলারও অনুরাগী ছিলেন। তিনি চাগতাই-তুর্কি ভাষায় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'মুলফুজাত-ই-তৈমুরী' রচনা করেন।
- ক)(1)
মুহাম্মদ বিন কাসিম কে ছিলেন?
- খ)(2)
খলিফা আল-ওয়ালিদের মৃত্যুর পর তাঁর সেনাপতিরা নিগৃহীত হয়েছিলেন কেন?
- গ)(3)
তৈমুর লং-এর কর্মকাণ্ডের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকান্ডের মিল রয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাকারী উক্ত উমাইয়া খলিফার জীবনকীর্তির বৈসাদৃশ্য পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন উমাইয়া খিলাফতের একজন বিখ্যাত তরুণ সেনাপতি, যিনি ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু ও মুলতান জয় করে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা আল-ওয়ালিদের পর তাঁর ভাই সুলায়মান সিংহাসনে আরোহণ করেন। সুলায়মানের সাথে সেনাপতিদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল। বিশেষ করে আল-ওয়ালিদের প্রধান সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বংশ ও দলের প্রতি সুলায়মানের চরম ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল। এ ছাড়া আল-ওয়ালিদ তাঁর পুত্রকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করতে চাইলে সুলায়মান ক্ষুব্ধ হন, যাতে এই সেনাপতিদের সমর্থন ছিল বলে ধারণা করা হয়। ফলে সিংহাসনে বসেই খলিফা সুলায়মান মুহাম্মদ বিন কাসিম, মুসা বিন নুসায়ের ও কুতায়বা বিন মুসলিমের মতো মহান সেনাপতিদের বন্দি, পদচ্যুত ও নিগৃহীত করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তৈমুর লং-এর কর্মকাণ্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের গভীর মিল রয়েছে।
তৈমুর লং যেমন মধ্য এশিয়া থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার করেন এবং বহু নৃপতিকে পরাজিত করে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ বিজয়ী হিসেবে পরিচিত হন, তেমনি খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজত্বকালও (৭০৫–৭১৫ খ্রি.) ছিল ইসলামি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারের যুগ। আল-ওয়ালিদের যোগ্য সেনাপতিদের মাধ্যমে পশ্চিমে স্পেন (আন্দালুস), পূর্বে সিন্ধু ও মধ্য এশিয়ায় তুর্কিস্তান বিজিত হয়। তাঁর আমলে উমাইয়া সাম্রাজ্য পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পূর্বে চীনের সীমান্ত ও ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
এ ছাড়া তৈমুর লং সাহিত্য ও শিল্পকলার অনুরাগী ছিলেন। খলিফা আল-ওয়ালিদও অনুরূপভাবে শিল্প, স্থাপত্য ও জনহিতকর কাজের মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন; তিনি দামেস্কের বিখ্যাত উমাইয়া মসজিদ নির্মাণ করেন। অতএব, সাম্রাজ্য বিস্তার ও শিল্পানুরাগের দিক থেকে তৈমুর লং-এর সাথে খলিফা আল-ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে তৈমুর লং এবং উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের জীবনকীর্তির মধ্যে সাম্রাজ্য বিস্তারে সাদৃশ্য থাকলেও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, শাসনের প্রকৃতি ও পরিণতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
প্রথমত, তৈমুর লং ছিলেন একজন ধ্বংসাত্মক বিজেতা। তিনি রাজ্য জয়ের সময় ব্যাপক রক্তপাত, গণহত্যা এবং শহর ধ্বংসের মতো নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাসে বিতর্কিত হয়ে আছেন। অন্যদিকে, খলিফা আল-ওয়ালিদের সেনাপতিরা রাজ্য জয় করলেও সেখানে ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবিক শাসন কায়েম করেছিলেন; তিনি ধ্বংসের পরিবর্তে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করেন।
দ্বিতীয়ত, তৈমুর লং নিজে সরাসরি রণক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিচালনা করে একের পর এক অঞ্চল জয় করেছিলেন। অপরদিকে খলিফা আল-ওয়ালিদ নিজে সরাসরি অভিযানে না গেলেও রাজধানী দামেস্কে বসে অত্যন্ত যোগ্য সেনাপতি—যেমন মুসা বিন নুসায়ের, তারিক বিন জিয়াদ, মুহাম্মদ বিন কাসিম ও কুতায়বা বিন মুসলিমকে পরিচালনার মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলগুলো জয় করেছিলেন।
তৃতীয়ত, তৈমুর লংয়ের সাম্রাজ্য তাঁর মৃত্যুর পর অচিরেই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হয়। কিন্তু আল-ওয়ালিদ উমাইয়া সাম্রাজ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগতভাবে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছিলেন এবং দামেস্কের গ্র্যান্ড মসজিদ, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের সংস্কার ও অসংখ্য হাসপাতাল-সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী জনকল্যাণ নিশ্চিত করেছিলেন।
সুতরাং দেখা যায় যে, বিজয়ের পরিধি বিশাল হলেও তৈমুর লং-এর জীবনকীর্তি ছিল মূলত যুদ্ধ ও ধ্বংসাত্মক বিজয়াভিযানের, আর খলিফা আল-ওয়ালিদের জীবনকীর্তি ছিল শান্তি, নির্মাণ ও স্থিতিশীল সাম্রাজ্য গঠনের।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও