মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোনটি?
- খ)(2)
পিটুইটারী-গ্রন্থিকে প্রভুগ্রন্থি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর B চিহ্নিত অংশটির কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর A চিহ্নিত অংশটির অবস্থান উল্লেখসহ এর গঠন বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মস্তিষ্ক (Brain)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এমন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসৃত হয় যা দেহের অন্যান্য অনাল বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন- থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জননগ্রন্থি ইত্যাদি) বৃদ্ধি, বিকাশ এবং হরমোন ক্ষরণকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার ক্ষমতার কারণেই পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'প্রভুগ্রন্থি' বা 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' (Master Gland) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের শাখা হিসেবে 'ঐচ্ছিক স্নায়ুতন্ত্র'-এর পাশাপাশি 'B' চিহ্নিত অংশটি নির্দেশ করে 'স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র' (Autonomic Nervous System)।
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র মূলত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের (যেমন—হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, রক্তনালী ইত্যাদি) অনৈচ্ছিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করে:
১. সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System): এটি জরুরি বা উত্তেজনাকর অবস্থায় (যেমন—ভয়, রাগ, বিপদ) সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বাড়ায়, চোখের তারা প্রসারিত করে এবং দেহকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া বা প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত করে।
২. পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Parasympathetic Nervous System): এটি সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের বিপরীতভাবে কাজ করে দেহকে শান্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এটি হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ কমায়, শক্তির অপচয় রোধ করে এবং পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখে।
সুতরাং, অভ্যন্তরীণ শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য বা হোমিওস্ট্যাসিস রক্ষা করাই স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কাজ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মস্তিষ্কের পাশাপাশি 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো 'সুষুম্নাকাণ্ড' বা 'মেরুমজ্জা' (Spinal Cord)।
অবস্থান:
সুষুম্নাকাণ্ড মস্তিষ্কের পশ্চাৎভাগের মেডুলা অবলংগাটা বা সুষুম্না শীর্ষক থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের অভ্যন্তরস্থ কশেরুকার ছিদ্র (নিউর্যাল ক্যানেল) দিয়ে পিঠের নিচের দিকে (প্রথম বা দ্বিতীয় লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত) বিস্তৃত। এটি মেরুদণ্ডের হাড় দ্বারা অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে।গঠন:
১. বাহ্যিক গঠন: সুষুম্নাকাণ্ড একটি দীর্ঘ, নলাকার ও নরম দণ্ডাকৃতির স্নায়ুরজ্জু। এটি প্রায় ৪০-৪৫ সেমি দীর্ঘ। এটি তিনটি স্তরবিশিষ্ট পর্দা বা মেনিনজেস (ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড মেটার ও পিয়ামেটার) দ্বারা আবৃত থাকে এবং এর ভেতরে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড থাকে। সুষুম্নাকাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু শরীরের বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত হয়।২. অভ্যন্তরীণ গঠন: সুষুম্নাকাণ্ডের প্রস্থচ্ছেদ করলে এর কেন্দ্রে প্রজাপতি বা ইংরেজি 'H' অক্ষরের মতো ধূসর পদার্থ (Grey Matter) দেখা যায়, যা মূলত স্নায়ুকোষের কোষদেহ দ্বারা গঠিত। এর কেন্দ্রস্থলে একটি সরু নালী থাকে যাকে সেন্ট্রাল ক্যানেল বলে। ধূসর পদার্থকে ঘিরে চারপাশে থাকে শ্বেত পদার্থ (White Matter), যা মূলত মায়েলিনযুক্ত স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত।
সুষুম্নাকাণ্ড মূলত মস্তিষ্ক ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও