মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

কাপড় ইস্ত্রি করার সময় গরম ইস্ত্রিতে নদীর হাত লেগে যায় এবং তাৎক্ষণিক হাতটি সরে আসে। সাগর ও সৈকত দুই বন্ধু হেঁটে বাড়ি ফিরছে। ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইকারীরা তাদের পথরোধ করে। ঘড়ি, মোবাইল, মানিব্যাগসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ভয় পেয়ে সাগর দৌড়ে পালিয়ে যায় কিন্তু সৈকত পাল্টা আক্রমণ করে। তার শক্তি ও সাহসের কাছে ছিনতাইকারীরা পরাস্ত হয়ে পালিয়ে যায়।

  1. ক)

    স্নায়ুতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    থ্যালামাসকে কেন রিলে কেন্দ্র বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নদীর হাত সরে আসার ঘটনাটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাগরের পালিয়ে যাওয়া এবং সৈকতের পাল্টা আক্রমণের বিষয়টিতে কি একই গ্রন্থির হরমোনের প্রভাব বিদ্যমান? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণী বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা গ্রহণ করে, অনুভূতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    থ্যালামাস মস্তিষ্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবেদী কেন্দ্র। ঘ্রাণ ছাড়া অন্যান্য সব সংবেদনশীল অঙ্গ (যেমন- চোখ, কান, ত্বক ইত্যাদি) থেকে আসা স্নায়বিক অনুভূতি থ্যালামাসে পৌঁছায় এবং থ্যালামাস সেগুলোকে বাছাই করে মস্তিষ্কের গুরুমস্তিষ্ক বা সেরেব্রাল কর্টেক্সের নির্দিষ্ট অংশে প্রেরণ করে। এটি সংবেদী তথ্যের মধ্যবর্তী প্রেরক বা রিলে কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে বলে একে রিলে কেন্দ্র বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গরম ইস্ত্রিতে হাত লাগার সাথে সাথে নদীর হাতটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরে আসার ঘটনাটি একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action)।

    প্রতিবর্ত ক্রিয়া হলো মস্তিষ্কের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছাড়াই সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তাৎক্ষণিক, অনিচ্ছাকৃত ও স্বতঃস্ফূর্ত শারীরিক প্রতিক্রিয়া। উদ্দীপকে যখন নদীর হাত গরম ইস্ত্রিতে স্পর্শ করে, তখন ত্বকের তাপগ্রাহক অঙ্গ উদ্দীপনা গ্রহণ করে। এই সংকেত সংজ্ঞাবহ বা সংবেদী নিউরোনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সুষুম্নাকাণ্ডে পৌঁছায়। সুষুম্নাকাণ্ড মস্তিষ্কে বার্তা পাঠানোর আগেই তাৎক্ষণিক বিপদের হাত থেকে শরীরকে রক্ষার জন্য আজ্ঞাবহ নিউরোনের মাধ্যমে হাতের পেশিতে নির্দেশ পাঠায়। ফলে নদী মস্তিষ্কে গরম অনুভূত হওয়ার পূর্বেই নিজের হাতটি সরিয়ে নেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, সাগরের পালিয়ে যাওয়া এবং সৈকতের পাল্টা আক্রমণের বিষয়টিতে একই গ্রন্থির হরমোনের প্রভাব বিদ্যমান; আর সেই গ্রন্থিটি হলো এড্রেনাল (Adrenal) গ্রন্থি।

    মানবদেহে জরুরি অবস্থা বা সংকটকালে (ভয়, রাগ, বিপদ) স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সিমপ্যাথেটিক অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এড্রেনাল গ্রন্থির মেডালা অংশ থেকে এড্রেনালিন (Adrenaline) ও নর-এড্রেনালিন হরমোন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এ হরমোন দুটিকে 'লড়াকু বা পলায়ন' (Fight or Flight) হরমোন বলা হয়।

    উদ্দীপকে সাগর ও সৈকত যখন ছিনতাইকারীর মুখোমুখি হয়, তখন দুজনের শরীরেই এড্রেনালিন হরমোন ক্ষরিত হয়ে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করে। এর ফলে উভয়েরই রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং পেশিতে অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চারিত হয়। এ হরমোনের প্রভাবেই শারীরিক শক্তি সংকট মোকাবিলার উপযোগী হয়।

    সাগর এই অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে ভয়ের মুখে 'পলায়ন' (Flight) প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং দৌড়ে পালিয়ে গেছে। অন্যদিকে সৈকত সেই একই হরমোনজনিত শারীরিক উদ্দীপনা ও শক্তি ব্যবহার করে বিপদের বিরুদ্ধে 'লড়াই' (Fight) করার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং পাল্টা আক্রমণ করেছে।

    সুতরাং, দুজনের আচরণগত প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হলেও তাদের শারীরিক প্রস্তুতি ও সক্রিয়তার মূলে একই এড্রেনাল গ্রন্থির হরমোনের প্রভাব বিদ্যমান ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন