সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: প্রিয়া বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। কিছুদিন পূর্বে প্রিয়ার বিয়ে হয়েছে। স্বামীকে নিয়ে প্রিয়া বর্তমানে মায়ের বাড়িতে বসবাস করছে।দৃশ্যকল্প-২: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী বিমলও একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। বিয়ের পর বিমল তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে এনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তাদের সামাজিক সংগঠন অত্যন্ত মজবুত।
- ক)(1)
হেডম্যান' কোন নৃগোষ্ঠীর মৌজা প্রধান?
- খ)(2)
জুম চাষ কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১-এ কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রিয়া ও বিমল উভয়ই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হলেও তাদের পরিবার ও বিবাহ ব্যবস্থা স্বতন্ত্র- মূল্যায়ন করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হেডম্যান' চাকমা (বা মারমা) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মৌজা প্রধান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুম চাষ হলো পাহাড়ের ঢালে বনজঙ্গল পুড়িয়ে প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার একটি মাধ্যম। বারবার জুম চাষের ফলে পাহাড়ের মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, উপরিভাগের মাটি আলগা হয়ে পাহাড় ধস ঘটে এবং ব্যাপক হারে বন উজাড় হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এসব পরিবেশগত ক্ষতি ও ভূমিক্ষয় রোধ করার জন্য সরকার পাহাড়ি অঞ্চলে জুম চাষের ওপর বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী মাতৃতান্ত্রিক 'গারো' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
গারোদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক ও মাতৃসূত্রীয়। এদের পরিবারে মাতার মাধ্যমে বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়। বিয়ের পর বর কনের বাড়ি অর্থাৎ শ্বশুরবাড়িতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যাকে মাতৃবাস বা মাতুলবাস ব্যবস্থা বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রিয়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য এবং বিয়ের পর সে তার স্বামীকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বসবাস করছে। মাতৃতান্ত্রিক গারো সমাজেই বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মায়ের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে। অতএব, দৃশ্যকল্প-১-এ গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারাই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রিয়া ও বিমল উভয়ই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হলেও তাদের পরিবার ও বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে স্পষ্ট কাঠামোগত স্বাতন্ত্র্য বা পার্থক্য বিদ্যমান—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
দৃশ্যকল্প-১-এর প্রিয়া মাতৃতান্ত্রিক গারো নৃগোষ্ঠীর এবং দৃশ্যকল্প-২-এর বিমল পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।
প্রথমত, পরিবার ব্যবস্থার দিক থেকে গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। গারো পরিবারে মাতাই পরিবারের প্রধান এবং সন্তানরা মায়ের বংশপদবি গ্রহণ করে। সম্পত্তির উত্তরাধিকারও মেয়েরা পায়, বিশেষ করে পরিবারের ছোট মেয়ে (নকনা) যাবতীয় সম্পত্তির মূল উত্তরাধিকারী হয়। অন্যদিকে, বিমলের চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। তাদের পরিবারে পিতাই সর্বেসর্বা, সন্তানরা পিতার পদবি গ্রহণ করে এবং পুত্রসন্তানরাই পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে।
দ্বিতীয়ত, বিবাহ ও বাসস্থান ব্যবস্থার দিক থেকে গারোদের সমাজে বিয়ের পর বর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে, যা মাতৃবাস রীতি। এছাড়া গারো সমাজে সমগোত্রে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পক্ষান্তরে, চাকমাদের বিবাহ ব্যবস্থায় বিয়ের পর কনে বরের বাড়ি এসে বসবাস করে, যা পিতৃবাস রীতি। চাকমা সমাজেও নিজস্ব সামাজিক নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং সেখানে তাদের নিজস্ব গোত্রভেদ ও সামাজিক সংগঠনের শক্ত প্রভাব থাকে।
সুতরাং, উপর্যুক্ত তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রিয়া ও বিমলের জাতিগত পরিচয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও সমাজ কাঠামোর মৌলিক ভিত্তি অর্থাৎ পরিবার ও বিবাহ ব্যবস্থার দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও