ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
চিত্রের আলোকে উত্তর দাও :
- ক)(1)
ইজমা'র আহাল কারা?
- খ)(2)
আমার উম্মত বিভ্রান্তির উপর একমত হবে না । – বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
চিত্রের ৩নং বিষয়টি কী কী যুক্তি প্রমাণের ভিত্তিতে সংঘটিত হতে পারে? যুক্তি দেখাও ।
- ঘ)(4)
“কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থি ইজমা গ্রহণযোগ্য নয়' পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইজমার আহাল বা যোগ্য ব্যক্তি হলেন সমকালীন মুসলিম উম্মাহর ফিকহবিদ ও মুজতাহিদগণ (আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাক্যটি মহানবী (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস, যার মাধ্যমে ইজমার প্রামাণিকতা ও অভ্রান্ততা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে পথভ্রষ্টতার উপর একমত করবেন না" (তিরমিযী)। এর অর্থ হলো, কোনো যুগে কোনো নতুন শরয়ি বিষয়ে যদি উম্মতের সকল যোগ্য মুজতাহিদ বা ফিকহবিদ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে সেই ঐক্যমত্য কখনো ভ্রান্ত বা বাতিল হতে পারে না। সমগ্র উম্মতের আলেম সমাজের ঐকমত্যকে আল্লাহ তাআলা ভুল ও বিভ্রান্তি থেকে সুরক্ষা দান করেছেন। তাই ইজমার মাধ্যমে নির্ধারিত বিধান মুসলিমদের জন্য অকাট্য ও অনুসর্তব্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ৩নং বিষয়টি হলো 'আল-ইজমা', যা ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস। ইজমা সংঘটিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সনদ বা প্রামাণ্য ভিত্তি থাকা অপরিহার্য। এটি মূলত নিম্নোক্ত দলিলের ভিত্তিতে সংঘটিত হতে পারে:
১. কুরআনুল কারিমের দলিল: কুরআনের কোনো আয়াতের প্রত্যক্ষ নির্দেশ, পরোক্ষ ইঙ্গিত বা মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ইজমা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কুরআনের মূলনীতির আলোকে দাদির উপস্থিতিতে পৌত্র-পৌত্রীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
২. সুন্নাহ বা হাদিসের দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, কর্ম বা মৌনসম্মতির সমর্থনে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন—চাচাতো বোন ও ফুফুকে একসাথে বিবাহে আবদ্ধ করা হারাম হওয়ার বিষয়ে হাদিসভিত্তিক ইজমা হয়েছে।
৩. কিয়াস বা যৌক্তিক সাদৃশ্য: অনেক সময় কুরআন-সুন্নাহর প্রত্যক্ষ বিধান না থাকলেও কিয়াসের মাধ্যমে একটি সার্বজনীন সিদ্ধান্তে আলেমগণ একমত হন। যেমন—সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক হযরত আবু বকর (রা.)-কে খলিফা নির্বাচনের সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, মহানবী (সা.) জীবদ্দশায় যাঁকে দ্বীনি কাজে (নামাজে) ইমামতি করতে মনোনীত করেছেন, আমরা তাঁকে পার্থিব বিষয়েও খলিফা মনোনীত করতে পারি।
৪. মাসলাহাহ মুরসালাহ বা জনকল্যাণ: ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী নয় এমন সাধারণ জনস্বার্থে ইজমা সংঘটিত হতে পারে। যেমন—কুরআন সংকলন ও গ্রন্থবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত।
সুতরাং, কোনো মনগড়া মতের ওপর ইজমা হয় না; বরং কুরআন, সুন্নাহ, কিয়াস বা সার্বিক শরয়ি কল্যাণবোধের ভিত্তিতেই ইজমা সংঘটিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থি ইজমা গ্রহণযোগ্য নয়"—উক্তিটি ইসলামি আইনশাস্ত্রের একটি অকাট্য ও মৌলিক মূলনীতি।
ইসলামি শরিয়তের প্রাথমিক ও প্রধান দুটি উৎস হলো আল-কুরআন এবং আস-সুন্নাহ। এগুলো সরাসরি ওহির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে ইজমা ও কিয়াস হলো শাখা উৎস, যা কুরআন ও সুন্নাহর অধীনে পরিচালিত হয়। কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক বিধান অপরিবর্তনীয় এবং যেকোনো সিদ্ধান্তকে অবশ্যই ওহির নির্দেশের অনুসারী হতে হয়।
শরিয়তের মূলনীতি অনুসারে:
১. ইজমার ভিত্তি হতে হয় কুরআন বা সুন্নাহ। কোনো বিষয়ের সমাধান খুঁজতে গিয়ে মুজতাহিদগণ এমন কোনো ঐকমত্য পোষণ করতে পারেন না যা কুরআনের কোনো স্পষ্ট বিধান বা সুন্নাহর বিপরীত।
২. কুরআন ও সুন্নাহর সরাসরি পরিপন্থি কোনো বিষয়ে যদি কোনো যুগ বা সমাজের মানুষ একমতও হয়, তবুও তা ইসলামি শরিয়তে 'ইজমা' বলে গণ্য হবে না; বরং তা সুস্পষ্ট বাতিল ও পথভ্রষ্টতা বলে বিবেচিত হবে। যেমন—সুদকে বৈধ ঘোষণা করা কিংবা সালাত-সিয়ামের মতো ফরজ বিধান রহিত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তও কোনো বৈধ ইজমা হতে পারে না।
৩. উসূলুল ফিকহের সুনির্দিষ্ট শর্ত হলো—ইজমা অবশ্যই শরিয়তের মূলনীতি ও ওহির নির্দেশনার অনুগামী হতে হবে। কোনো ইজমা যদি মূল উৎস দুটির সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা শরিয়তের মানদণ্ডে বাতিল গণ্য হবে।অতএব, ইসলামি শরিয়তের মৌলিক কাঠামোকে সমুন্নত রাখতে কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণ করে এমন কোনো ইজমা কখনই গ্রহণযোগ্য বা বৈধ হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও