ভূগোল ২য় পত্র • খনিজ ও শক্তি সম্পদ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বাংলাদেশের পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে সিলিকা বালির বণ্টন ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মানচিত্রে চিহ্নিত অঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে চিহ্নিত অঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযোগী পদক্ষেপগুলো ব্যাখ্যা করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিলিকা বালি কাঁচ ও সিরামিক শিল্পের একটি প্রধান কাঁচামাল। বাংলাদেশে প্রধানত সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং শেরপুর জেলায় সিলিকা বালির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিলেটের কুল্লাউড়া ও লালাখাল, হবিগঞ্জের শাহজীবাজার, নেত্রকোণার দুর্গাপুর (বিজয়পুর) এবং শেরপুরের বালুঘাট এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সিলিকা বালি মজুত রয়েছে এবং তা উত্তোলন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে একটি তারকা চিহ্নের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ তেল (প্রধানত প্রাকৃতিক গ্যাস)।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. বিদ্যুৎ উৎপাদন: দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তির একটি বিরাট অংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে।
    ২. শিল্প খাতের জ্বালানি ও কাঁচামাল: সার কারখানা, টেক্সটাইল, সিরামিক, রি-রোলিং মিলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধান জ্বালানি এবং কাঁচামাল (যেমন: ইউরিয়া সারে) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    ৩. গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক ব্যবহার: রান্না ও দৈনন্দিন কাজে এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
    ৪. পরিবহন খাত: সিএনজি (CNG) হিসেবে গ্যাস যানবাহনে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা আমদানি নির্ভর জ্বালানি তেলের খরচ হ্রাস করে।
    সুতরাং, দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চিহ্নিত অঞ্চলের প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো সিলেট অঞ্চল, যার প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (ও সামান্য খনিজ তেল)। এ সম্পদ উত্তোলনের সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশের সুষ্ঠু সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য নিম্নোক্ত উপযোগী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক:

    ১. উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার: গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সময় ত্রুটিহীন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যেন ড্রিলিং বা পাইপলাইনের সময় কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা তরল পদার্থ ভূগর্ভস্থ পানি ও পার্শ্ববর্তী মাটিতে মিশে না যায়।
    ২. গ্যাস লিকেজ ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ: মাগুরছড়া বা টেংরাটিলার মতো পরিবেশ বিপর্যয়কারী গ্যাস বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড রোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ (মনিটরিং) ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    ৩. বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: সিলেট অঞ্চলটি পাহাড়ি বন ও চা বাগানে সমৃদ্ধ। খনিজ উত্তোলনের জন্য যত্রতত্র গাছপালা কাটা বন্ধ করতে হবে এবং উত্তোলনের ফলে আশপাশের বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হবে।
    ৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ড্রিলিং মাড (drilling mud), রাসায়নিক বর্জ্য এবং পরিশোধনের সময় নির্গত ক্ষতিকারক উপজাত পদার্থগুলো নির্ধারিত নিরাপদ উপায়ে শোধন ও অপসারণ করতে হবে।
    ৫. পরিবেশ সমীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ (EIA): যেকোনো নতুন গ্যাসকূপ খননের পূর্বে সঠিক 'এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট' (EIA) পরিচালনা করা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ আইন কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

    এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও ঝুঁকি কমিয়ে খনিজ সম্পদের টেকসই উত্তোলন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন