ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
দক্ষিণ এশিয়ার নদী বিধৌত উন্নয়নশীল একটি দেশে অধিক জন্মহার বিদ্যমান। পূর্ব এশিয়ার অপর একটি উন্নত দেশ যার জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই তুলনামূলকভাবে কম এবং দেশটি শিল্পোন্নত।
- ক)(1)
প্রজননশীলতা কী?
- খ)(2)
বান্দরবানের জনসংখ্যার ঘনত্ব কম- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথমে ইঙ্গিতকৃত দেশটির উচ্চ জন্মহারের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশদ্বয়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ভিন্ন হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রজননক্ষম বয়সে (সাধারণত ১৫–৪৯ বছর) কোনো নারী বা নারীগোষ্ঠীর সন্তান জন্মদানের বাস্তব ক্ষমতা বা ঘটনাকে প্রজননশীলতা (Fertility) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বান্দরবানের ভূপ্রকৃতি পাহাড়ি ও বন্ধুর হওয়ায় এবং সমতল ভূমির অভাবের কারণে সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত কম। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিজমির অপ্রতুলতা এবং শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবের ফলে সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ নেই। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে বান্দরবানে জনবসতি অত্যন্ত পাতলা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথমে ইঙ্গিতকৃত দক্ষিণ এশিয়ার নদীবিধৌত উন্নয়নশীল দেশটি হলো বাংলাদেশ (বা ভারত)। দেশটির উচ্চ জন্মহারের কারণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: উন্নয়নশীল এ দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোতে সন্তানকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অবলম্বন ও বাড়তি আয়ের উৎস মনে করা হয়।
২. বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ: সমাজব্যবস্থায় শিক্ষার হার কম থাকায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ফলে নারীদের প্রজননকাল দীর্ঘ হয় এবং জন্মহার বৃদ্ধি পায়।
৩. শিক্ষার অভাব ও সচেতনতার ঘাটতি: সাধারণ জনগণের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কার্যকর শিক্ষার অভাব জন্মহার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
৪. ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার: অনেকের মধ্যে ধর্মীয় ভুল ধারণা এবং পুত্রসন্তান লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান, যা জন্মহারকে উচ্চ রাখে।
৫. উচ্চ শিশুমৃত্যুর হার: অতীতে শিশুমৃত্যুর হারের আশঙ্কা থেকে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা সমাজে টিকে ছিল, যা জন্মহারকে প্রভাবিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ (যেমন- বাংলাদেশ) এবং পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নত শিল্পোন্নত দেশের (যেমন- জাপান) ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই দুই দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ভিন্ন হওয়ার কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক ভিত্তি ও জীবনযাত্রার মান: প্রথম দেশটি কৃষিভিত্তিক ও উন্নয়নশীল, যেখানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়। অপরদিকে পূর্ব এশিয়ার দেশটি উন্নত ও শিল্পসমৃদ্ধ; সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় মানুষ ছোট পরিবার পছন্দ করে, যা জন্মহারকে অত্যন্ত কম রাখে।
২. নারীশিক্ষা ও কর্মসংস্থান: উন্নত দেশে নারীদের উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের হার অত্যন্ত বেশি। ক্যারিয়ার ও পেশাগত দায়িত্বের কারণে সেখানে নারীরা দেরিতে বিয়ে করেন বা কম সন্তান নেন। উন্নয়নশীল দেশে নারীশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
৩. স্বাস্থ্যসেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার: উন্নত দেশে আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবার শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় জন্মহার সুনিয়ন্ত্রিত। পক্ষান্তরে উন্নয়নশীল দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতি সত্ত্বেও অসচেতনতার কারণে জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি।
৪. মৃত্যুহার ও গড় আয়ু: উন্নত দেশে উন্নত চিকিৎসা ও জীবনমানের কারণে মৃত্যুহার খুব কম এবং গড় আয়ু অনেক বেশি হলেও বয়োবৃদ্ধ জনসংখ্যার হার বেশি হওয়ায় সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি অত্যন্ত শ্লথ বা ঋণাত্মক। অপরদিকে উন্নয়নশীল দেশটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুহার কমলেও জন্মহার এখনো সে অনুপাতে হ্রাস পায়নি, যার ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত।
অতএব, অর্থনৈতিক রূপান্তর, শিক্ষার প্রসার, জীবনযাত্রার ধরন এবং প্রজননগত সচেতনতার পার্থক্যের কারণেই উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশদ্বয়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে স্পষ্ট ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও