ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অর্থকরী ফসল কী?

    (1)
  2. খ)

    নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে গম ভালো জন্মে-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' শস্যটি উৎপাদনে ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ফসল দুটির বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের মাধ্যমে কৃষক নগদ অর্থ উপার্জন করে থাকে, সেগুলোকে অর্থকরী ফসল বলা হয় (যেমন— পাট, চা, তুলা, তামাক ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গম মূলত নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের একটি প্রধান খাদ্যশস্য। গম চাষের প্রাথমিক অবস্থায় এবং বৃদ্ধির সময় ১৬° সে. থেকে ২০° সে. মধ্যম তাপমাত্রা এবং মাঝারি বৃষ্টিপাত (৫০ থেকে ৭৫ সেমি) প্রয়োজন হয়, যা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে বিদ্যমান থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় গমের বিভিন্ন রোগ হতে পারে, যা ফসলহানির কারণ। তাই নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অনুকূল মৃদু তাপমাত্রা এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় গম সবচেয়ে ভালো জন্মে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' খাদ্যশস্যটি এশিয়া মহাদেশে উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে, যা ধানকে নির্দেশ করে। ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ নিম্নরূপ:

    ১. প্রাকৃতিক নিয়ামক:

    • জলবায়ু: ধান উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ুর ফসল।
    • তাপমাত্রা: ধান চাষের জন্য গড়ে ২০° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
    • বৃষ্টিপাত: প্রচুর বৃষ্টিপাত আবশ্যক, গড়ে ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত ধান চাষের জন্য উপযোগী।
    • মৃত্তিকা: উর্বর পলিযুক্ত দোআঁশ ও এঁটেল মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, যা সহজে পানি ধরে রাখতে পারে।
    • ভূমির প্রকৃতি: ধানের জমিতে পানি আটকে রাখার সুবিধার্থে সমতল ভূমি প্রয়োজন।

    ২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিয়ামক:

    • সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক: ধানের চারা রোপণ, পরিচর্যা ও ফসল কাটার জন্য প্রচুর সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
    • মূলধন ও সার প্রয়োগ: আধুনিক সার, উন্নত বীজ এবং কীটনাশক ক্রয়ের জন্য পর্যাপ্ত মূলধনের জোগান দরকার হয়।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ফসল দুটি হলো 'ক' খাদ্যশস্য অর্থাৎ ধান এবং 'খ' খাদ্যশস্য অর্থাৎ গম (যার রপ্তানি বাণিজ্যে উত্তর আমেরিকার দেশসমূহ এগিয়ে রয়েছে)। বিশ্বব্যাপী এদের উৎপাদনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. উৎপাদক অঞ্চল:

    • ধান: বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদিত হয় এশিয়া মহাদেশে। চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম ধান উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ।
    • গম: গম তুলনামূলকভাবে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এলাকায় উৎপাদিত হয়। চীন, ভারত, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স প্রধান গম উৎপাদক দেশ।

    ২. জলবায়ুগত পার্থক্য:

    • ধান প্রধানত উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে চাষ হয়, যেখানে প্রচুর পানি ও উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন।
    • গম প্রধানত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জন্মায়, যেখানে মৃদু তাপমাত্রা এবং পরিমিত বৃষ্টিপাত আবশ্যক।

    ৩. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবহার:

    • এশিয়ার দেশগুলোতে বিপুল জনসংখ্যার প্রধান খাদ্য হওয়ায় উৎপাদিত ধানের সিংহভাগই স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়; আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বৃত্ত ধানের অল্প অংশই (প্রায় ৫-১০%) রপ্তানি হয়।
    • অন্যদিকে গম প্রধানত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিশাল খামারে উৎপাদিত হয়। উত্তর আমেরিকার দেশসমূহ (যেমন— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) তাদের বিপুল উদ্বৃত্ত গম রপ্তানি করে বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যের শীর্ষে অবস্থান করে।

    পরিশেষে, খাদ্যশস্য হিসেবে ধান মূলত এশিয়া-কেন্দ্রিক হলেও গম বিশ্বব্যাপী তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে উৎপাদিত ও বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন