ভূগোল ২য় পত্র • খনিজ ও শক্তি সম্পদ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
জীবাশ্ম জ্বালানি কী?
- খ)(2)
সিলেট অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র বেশি- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' স্থানে ইঙ্গিতকৃত খনিজটির বিশ্বব্যাপী বণ্টন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' ও 'খ' স্থানের খনিজদ্বয়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূ-অভ্যন্তরে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ উচ্চ চাপ ও তাপে রূপান্তরিত হয়ে যে জ্বালানি তৈরি হয়, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) বলে; যেমন— কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিলেট অঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঞ্চয় বেশি দেখা যায়। এ অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক স্তরবিন্যাস টারশিয়ারি যুগে পলল শিলা গঠনের সাথে সম্পৃক্ত। এখানে ভাঁজযুক্ত ভূ-গঠন বা অ্যান্টিক্লাইনাল (anticlinal) কাঠামোর উপস্থিতি রয়েছে, যা গ্যাস বা হাইড্রোকার্বন আটকে রাখার জন্য আদর্শ 'ট্র্যাপ' বা ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া প্রাচীন জৈব পদার্থের প্রাচুর্য ও অনুকূল চাপ-তাপের কারণে সিলেট অববাহিকায় দেশের অধিকাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' স্থানটি চীনকে নির্দেশ করে। বিশ্বব্যাপী কয়লা উত্তোলনে চীন শীর্ষে থাকায় এখানে ইঙ্গিতকৃত প্রধান খনিজটি হলো 'কয়লা' (অথবা লোহা আকরিক)। নিচে কয়লার বিশ্বব্যাপী বণ্টন আলোচনা করা হলো:
১. চীন: বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা উৎপাদনকারী দেশ। চীনের শানসি, সানসি, অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়া প্রভৃতি প্রদেশে প্রচুর কয়লা পাওয়া যায়।
২. ভারত: দামোদর উপত্যকা (ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ), ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে প্রচুর কয়লা সঞ্চিত রয়েছে।
৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: অ্যাপালেচিয়ান কয়লা ক্ষেত্র, ইলিনয় বেসিন এবং পশ্চিমাঞ্চলের কয়লা ক্ষেত্রগুলোতে বিপুল পরিমাণ কয়লা উৎপন্ন হয়।
৪. অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়া: উভয়েই কয়লা উত্তোলনে শীর্ষস্থানীয় এবং বিশ্বে অন্যতম প্রধান কয়লা রপ্তানিকারক দেশ।
৫. অন্যান্য অঞ্চল: ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি ও পোল্যান্ডেও প্রচুর কয়লা পাওয়া যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' স্থানটি চীন এবং 'খ' স্থানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দেশ করে। এদের অন্যতম প্রধান শক্তি ও খনিজ সম্পদ হলো কয়লা ও খনিজ তেল/প্রাকৃতিক গ্যাস। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই খনিজ সম্পদগুলোর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. শক্তির নিরাপত্তা ও শিল্পায়ন: চীন ('ক') ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ('খ') উভয়েই খনিজ সম্পদ ব্যবহারে ও উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। কয়লা ও তেল বিশ্বের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি। এদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও বাণিজ্য ভারসাম্য: কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্ববাণিজ্যের প্রধানতম পণ্য। যেসকল দেশ এগুলো রপ্তানি করে (যেমন—অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র), তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। অপরদিকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম শক্তি ভোক্তা হিসেবে প্রচুর জ্বালানি আমদানি করে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং ও বন্দর কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
৩. আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণ: তেল ও কয়লার সরবরাহ ও চাহিদার ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল্যস্ফীতি বহুলাংশে নির্ভরশীল। ওপেক (OPEC) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তিজোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এই খনিজগুলোর নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করে থাকে।সুতরাং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা, শিল্পোন্নয়ন এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় 'ক' ও 'খ' স্থানে ইঙ্গিতকৃত খনিজ সম্পদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও