সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক মনিরুলকে এমন একটি বিষয়ে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলেন, যে বিষয়ের মূল বিষয়বস্তু হলো সমাজ ও মানুষ। বিষয়টি সমাজের মানুষের আচরণ,সামাজিক সংগঠন, মূল্যবোধ, সামাজিকীকরণ, ঐতিহ্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে বিদেশ থেকে সে বর্তমানে এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এখন কাজ করছেন।

  1. ক)

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মনিরুলের পঠিত বিষয়টিরবিকাশধারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি বাংলাদেশে বিকাশ লাভ করার ক্ষেত্রে ড. এ. কে. নাজমুল. করিমসহ কয়েকজন ব্যক্তির অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক উন্নয়ন বলতে সমাজের সার্বিক ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাসের সমন্বিত একটি প্রক্রিয়া। সামাজিক উন্নয়নের ফলে সমাজস্থ মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় টেকসই ইতিবাচক রূপান্তর ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মনিরুলের পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। বাংলাদেশে স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূচনা হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৫৭ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) সহায়তায় এবং ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রসের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে 'সমাজবিজ্ঞান বিভাগ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ১৯২০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়ে সমাজতাত্ত্বিক বিভিন্ন বিষয়ের প্রাথমিক পাঠদান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান কোর্স চালু হয়। কালক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটে, যা উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের বিকাশধারার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে ড. এ. কে. নাজমুল করিমসহ কয়েকজন সমাজবিজ্ঞানীর অবদান অনন্য ও অনস্বীকার্য।

    ড. এ. কে. নাজমুল করিমকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রচিত 'Changing Society in India and Pakistan' (১৯৫৬) এবং 'The Dynamics of Bangladesh Society' গ্রন্থ দুটি বাংলাদেশের সমাজকাঠামো বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দীর্ঘকাল নেতৃত্ব দিয়ে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন ও গবেষণার মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।

    এ ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তিদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইউনেস্কোর প্রতিনিধি প্রখ্যাত নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রস (Claude Lévi-Strauss) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ খোলার সুপারিশ ও কারিগরি সহায়তা দেন। বিদেশি অধ্যাপক ড. পি বেসাইনি (Pierre Bessaignet) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে বিভাগ গঠনে কাজ করেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আফসারউদ্দীন, ড. বদরুল আলম খান, ড. অনুপম সেন, ড. কে এ এম সাদউদ্দীন প্রমুখ পণ্ডিত ব্যক্তি সমাজবিজ্ঞান শিক্ষাদান, গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে এ বিষয়টিকে দেশে জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধ করে তোলেন। ড. অনুপম সেনের 'The State, Industrialization and Class Formations in India' একটি আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থ।

    অতএব, উপর্যুক্ত পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন এবং উত্তরোত্তর বিকাশে ড. এ. কে. নাজমুল করিমসহ বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানীদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন