গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ১০০১০০ গ্রামের ১১ প্যাকেট চিড়াতে ৬.৬৬.৬ গ্রাম প্রোটিন, ১.২১.২ গ্রাম চর্বি এবং ৭৭.৩৭৭.৩ গ্রাম শর্করা আছে।
দৃশ্যকল্প-২: জামিল সাহেবের পরিবারে তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা আছে। তার পুত্রের বয়স ১৪১৪ বছর, কন্যার বয়স ৬৬ বছর।

  1. ক)

    ক্যালরি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পুরুষের মৌলিক বিপাক হার স্ত্রীলোক অপেক্ষা বেশি কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ নির্দেশিত চিড়ার শক্তিমূল্য নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত পরিবারের সদস্যদের শক্তি চাহিদা নির্ণয়ে তুমি কোন কোন বিষয় বিবেচনা করবে? যুক্তিসহ উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ১ ক্যালরি বলে। পুষ্টিবিজ্ঞানে শক্তির একক হিসেবে সাধারণত কিলোক্যালরি (১ কিলোক্যালরি = ১০০০ ক্যালরি) ব্যবহৃত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পুরুষের মৌলিক বিপাকীয় হার (BMR) নারীদের তুলনায় বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো দৈহিক গঠন ও উপাদানের ভিন্নতা। পুরুষদের দেহে তুলনামূলকভাবে পেশিবহুল কলা বা চর্বিহীন কলার (Lean body mass) পরিমাণ বেশি থাকে এবং চর্বির পরিমাণ কম থাকে। পেশিকলার বিপাকীয় সক্রিয়তা চর্বিকলার চেয়ে অনেক বেশি। পক্ষান্তরে, নারীদের দেহে অ্যাডিপোজ টিস্যু বা চর্বির অনুপাত বেশি থাকে, যা বিপাকীয়ভাবে কম সক্রিয়। এছাড়া পুরুষ হরমোন (যেমন টেস্টোস্টেরন) বিপাকীয় হার বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। ফলে পুরুষের মৌলিক বিপাক হার স্ত্রীলোক অপেক্ষা বেশি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী ১০০ গ্রাম চিড়াতে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ:
    প্রোটিন = ৬.৬ গ্রাম
    চর্বি = ১.২ গ্রাম
    শর্করা = ৭৭.৩ গ্রাম

    আমরা জানি,
    ১ গ্রাম প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৪ কিলোক্যালরি
    ১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৯ কিলোক্যালরি
    ১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৪ কিলোক্যালরি

    অতএব, চিড়া থেকে প্রাপ্ত মোট শক্তি:
    প্রোটিন হতে প্রাপ্ত শক্তি = ৬.৬ × ৪ = ২৬.৪ কিলোক্যালরি
    চর্বি হতে প্রাপ্ত শক্তি = ১.২ × ৯ = ১০.৮ কিলোক্যালরি
    শর্করা হতে প্রাপ্ত শক্তি = ৭৭.৩ × ৪ = ৩০৯.২ কিলোক্যালরি

    সুতরাং, ১০০ গ্রাম চিড়ার মোট শক্তিমূল্য = (২৬.৪ + ১০.৮ + ৩০৯.২) কিলোক্যালরি = ৩৪৬.৪ কিলোক্যালরি।

    উত্তর: চিড়ার মোট শক্তিমূল্য ৩৪৬.৪ কিলোক্যালরি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ জামিল সাহেবের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জামিল সাহেব, তাঁর স্ত্রী, ১৪ বছর বয়সী পুত্র এবং ৬ বছর বয়সী কন্যা। তাঁদের শক্তি চাহিদা নির্ণয়ে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করতে হবে:

    ১. বয়স: বয়সের সাথে শক্তি চাহিদার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাড়ন্ত বয়সে দেহের বৃদ্ধি ও নতুন কোষ গঠনের জন্য বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে ১৪ বছর বয়সী পুত্রের শারীরিক বৃদ্ধির দ্রুততার কারণে প্রচুর ক্যালরির চাহিদা থাকবে। ৬ বছর বয়সী কন্যারও বৃদ্ধির জন্য শক্তি প্রয়োজন, তবে দেহের আকার ছোট হওয়ায় মোট পরিমাণ কম হবে।

    ২. লিঙ্গভেদ: একই বয়স বা কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর দেহে পেশিকলা ও চর্বির অনুপাত ভিন্ন হওয়ায় পুরুষের শক্তি চাহিদা বেশি থাকে। ফলে জামিল সাহেবের শক্তি চাহিদা তাঁর স্ত্রীর তুলনায় এবং ১৪ বছর বয়সী কিশোর পুত্রের শক্তি চাহিদা সমবয়সী বা ছোট কন্যা অপেক্ষা বেশি হবে।

    ৩. দেহের আকার ও ওজন: দেহের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল এবং ওজন যত বেশি হয়, মৌলিক বিপাকের শক্তি ব্যয় তত বাড়ে। জামিল সাহেব ও তাঁর স্ত্রীর শারীরিক ওজন ও উচ্চতা বিবেচনা করে শক্তির ভিত্তি নির্ধারণ করতে হবে।

    ৪. দৈহিক পরিশ্রম বা শারীরিক ক্রিয়াকলাপ: জামিল সাহেব ও তাঁর স্ত্রী কী ধরনের পেশা বা দৈনন্দিন কাজে যুক্ত (হালকা, মাঝারি না ভারী পরিশ্রমী) তার ওপর তাঁদের শক্তি ব্যয় নির্ভর করবে। এছাড়া ১৪ বছরের পুত্র এবং ৬ বছরের কন্যা সাধারণত অত্যন্ত সক্রিয় ও খেলাধুলায় রত থাকে, যা তাদের অতিরিক্ত শক্তি খরচের কারণ।

    ৫. বিশেষ শারীরিক অবস্থা: পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য বিশেষ করে জামিল সাহেবের স্ত্রীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালীন অবস্থা রয়েছে কি না তা দেখতে হবে, কারণ এসব অবস্থায় অতিরিক্ত পুষ্টি ও শক্তির প্রয়োজন হয়।

    উপরিউক্ত বিষয়গুলোর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সঠিক দৈনিক ক্যালরি বা শক্তি চাহিদা নির্ধারণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন