‍ইতিহাস ২য় পত্র • হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার। পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।

  1. ক)

    ফুয়েরার অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    অক্ষশক্তি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ব্যক্তির পররাষ্ট্রনীতি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ। করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ফুয়েরার' (Führer) একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ হলো 'নেতা' বা 'সর্বাধিনায়ক'। এডলফ হিটলারের উপাধি ছিল ফুয়েরার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি, ইতালি এবং জাপান—এই তিনটি প্রধান রাষ্ট্র মিলে যে সামরিক ও রাজনৈতিক জোট গঠন করেছিল, তাকে 'অক্ষশক্তি' (Axis Powers) বলা হয়। ১৯৩৬ সালে রোম-বার্লিন চুক্তির মাধ্যমে ইতালি ও জার্মানির মধ্যে মৈত্রী স্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে জাপানের সাথে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এ জোট পূর্ণতা লাভ করে, যা মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইতালির ফ্যাসিবাদী একনায়ক বেনিতো মুসোলিনিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    মুসোলিনি ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন, যা রোমান সভ্যতাসহ পৃথিবীর বহু বিখ্যাত মনীষীর দেশ। তিনি প্রাথমিকভাবে শিক্ষকতা পেশা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি সমাজতন্ত্র ত্যাগ করে ১৯১৯ সালে মিলানে উগ্র জাতীয়তাবাদী 'ফ্যাসিও দি কমবাতিমেন্তো' বা ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। তিনি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের বিরোধী ছিলেন এবং বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল ও রক্ষা করায় বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯২২ সালে তার নেতৃত্বে পরিচালিত 'রোম অভিযান'-এর মাধ্যমে তিনি ইতালির ক্ষমতা দখল করেন। উদ্দীপকের 'X' নামক ব্যক্তির শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আগমন, নিজস্ব দল গঠন এবং বলপ্রয়োগে বিশ্বাস মূলত বেনিতো মুসোলিনির উত্থানকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ব্যক্তি হলেন ইতালির একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি। নিম্নে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ করা হলো:

    মুসোলিনির পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য ছিল প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের গৌরব ফিরিয়ে আনা, ভূমধ্যসাগরকে ইতালির 'অভ্যন্তরীণ হ্রদে' পরিণত করা এবং ইতালির ভূখণ্ড ও ঔপনিবেশিক প্রভাব বিস্তার করা। তার পররাষ্ট্রনীতির প্রধান দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও আগ্রাসন: মুসোলিনি ১৯২৩ সালে গ্রিসের করফু দ্বীপ সাময়িকভাবে দখল করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কোনো কারণ ছাড়াই আফ্রিকার স্বাধীন রাষ্ট্র আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) আক্রমণ ও দখল করে নেন। এর ফলে লীগ অব নেশনস ইতালির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার জবাবে ইতালি ১৯৩৭ সালে সংস্থাটি ত্যাগ করে।

    ২. আলবেনিয়া দখল: ১৯৩৯ সালে ইতালি বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্র আলবেনিয়া আক্রমণ ও দখল করে নেয়।

    ৩. জার্মানির সাথে মৈত্রী: প্রথমদিকে হিটলারের সাথে কিছুটা দূরত্ব থাকলেও আবিসিনিয়া সংকটের পর মুসোলিনি হিটলারের জার্মানির কাছাকাছি আসেন। ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'রোম-বার্লিন অক্ষ' এবং পরবর্তীতে তা জাপানের সাথে যুক্ত হয়ে ত্রিপক্ষীয় অক্ষচুক্তিতে রূপ নেয়। ১৯৩৯ সালে জার্মানির সাথে ইতালি 'ইস্পাত চুক্তি' (Pact of Steel) স্বাক্ষর করে।

    ৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইতালি অক্ষশক্তির পক্ষে ১৯৪০ সালে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং গ্রিস ও উত্তর আফ্রিকায় অভিযান পরিচালনা করে।

    সুতরাং, মুসোলিনির পররাষ্ট্রনীতি ছিল চরম আগ্রাসী, সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাদী, যা বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ত্বরান্বিত করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন